মানুষ মুহম্মদ (স)
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
(১) একদা রাতে হাজী মুহাম্মদ মুহসীন ঘুমাচ্ছিলেন। মাঝরাতে একটি শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায়। তিনি দেখলেন তার ঘরে একজন অপরিচিত লোক ঢুকেছে। মুহসীন বললেন, “কে তুমি? আমার ঘরে কেন প্রবেশ করেছ?” লোকটি সভয়ে বলল, “আমি তিন দিন ধরে কিছু খাইনি, আমার কাছে কোনো টাকা-পয়সা নাই।” মুহসীনের দয়া হলো। তিনি লোকটিকে কিছু টাকা দিয়ে বিদায় করলেন।
(ক) সকলের মহাযাত্রা কার দিকে?
(খ) মহানবি (স.) মানুষের একজন হয়েও দুর্লভ কেন? বুঝিয়ে লেখ।
(গ) উদ্দীপকে হাজী মুহাম্মদ মুহসীনের কর্মকাণ্ডে ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের কোন নিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? বর্ণনা কর।
(ঘ) উদ্দীপকে প্রতিফলিত দিকটি ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের সমগ্রতাকে ধারণে সক্ষম নয়- মন্তব্যটির যথার্থতা যাচাই কর।
উত্তর
(ক) সকলের মহাযাত্রা সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর দিকে।
(খ) মহানবি (স.) মানুষের একজন হয়েও দুর্লভ। কারণ তিনি মানবিক গুণাবলির দিক দিয়ে এক ব্যতিক্রম আদর্শ, যা অন্য কোনো মানুষের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় না।
হযরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন মানুষের নবি। তিনি বিপুল ঐশ্বর্য,ক্ষমতা, মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মধ্যে থেকেও একজন সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করে গেছেন। মহত্ত্ব, প্রেম, দয়া, সাধুতা, ত্যাগ তাঁর অজস্র চারিত্রিক গুণের মধ্যে প্রধান। তিনি ছিলেন সাহসী, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, ক্ষমা ও সৌজন্যের আদর্শ। একজন মানুষের মধ্যে একসঙ্গে এত গুণের সমাবেশ অতি দুর্লভ। তিনি মানুষের শ্রেষ্ঠ আদর্শ। মানবসভ্যতার ইতিহাসে মহানবি (স) অত্যন্ত অসাধারণ চরিত্র।
তাই বলা হয়েছে, মহানবি (স.) মানুষের মধ্যে একজন হয়েও দুর্লভ।
(গ) উদ্দীপকে হাজী মুহম্মদ মুহসীনের কর্মকাণ্ডে ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের ক্ষমাশীলতা ও সহমর্মিতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
আমাদের সমাজে এমন কিছু দানশীল ও মহান মানুষ থাকেন যারা নিজেদের ধন-সম্পদ এই অসহায়দের মধ্যে বিলিয়ে দেন। কখনো কখনো নিজেদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বাদ দিয়ে তারা অসহায় মানুষকে সাহায্য করে থাকেন।
উদ্দীপকের হাজী মুহম্মদ মুহসীন মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন তার ঘরে অপরিচিত লোক ঢুকেছে। লোকটির পরিচয় জানতে চাইলে সে বলে, সে তিনদিন ধরে কিছুই খায়নি, তার কাছে কোনো টাকা পয়সাও নেই। তিনি তাকে ক্ষমা করে টাকা-পয়সা দিয়ে বিদায় করলেন। ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে হযরত মুহম্মদ (স.)-এর চরিত্রেও এই ক্ষমা ও সহমর্মিতার গুণাবলি ফুটে উঠেছে। ইসলামের সুমহান বাণী প্রচার করতে গিয়ে তিনি অজস্র নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কিন্তু তিনি প্রতিশোধ না নিয়ে তাদের ক্ষমা করে বুকে টেনে নিয়েছেন। অসহায় মানুষদের পাশে সব সময় দাঁড়িয়েছেন।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের হাজী মুহম্মদ মুহসীনের কর্মকাণ্ডে ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের ক্ষমাশীলতা ও সহমর্মিতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
(ঘ) উদ্দীপকে প্রতিফলিত দিকটি ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের সমগ্রতাকে ধারণে সক্ষম নয়- মন্তব্যটি যথার্থ।
সততা, ক্ষমাশীলতা, দানশীলতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা প্রভৃতি মানুষের মানবীয় গুণ। এসব গুণ, একজন মানুষকে মহান করে তোলে। মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করা ব্যক্তিই সেরা জীব।
উদ্দীপকের হাজী মুহম্মদ মুহসীন গভীর রাতে তার ঘরে একজন অপরিচিত লোককে দেখেও তার প্রতি দয়া দেখান। অসহায়, অভুক্ত লোকটিকে তিনি টাকা দিয়ে বিদায় করে দিলেন। এখানে তার চরিত্রে ক্ষমশীলতা ও সহমর্মিতার দিকটি ফুটে উঠেছে। ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে মুহম্মদ (স.)-এর চরিত্রেও এই গুণাবলি বিদ্যমান ছিল। তিনিও তার শত্রুদের ক্ষমা করে দিয়ে বুকে টেনে নিয়েছিলেন। তবে প্রবন্ধে আরও অনেক ভাব ফুটে উঠেছে যা উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি। ক্ষমাশীলতা ও সহমর্মিতা ছাড়াও তাঁর চরিত্রের সত্যবাদিতা, ধৈর্যশীলতা, আমানত রক্ষা প্রভৃতি মহৎ গুণের উল্লেখ আছে যা উদ্দীপকে নেই।
‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে হযরত মুহম্মদ (স.) এর মানবিক গুণাবলির অনেকগুলো দিক তুলে ধরা হয়েছে যা উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি। যেমন- সত্য প্রচার করতে গিয়ে নির্মম নির্যাতন ভোগ করা, মহানবি (স.)-এর সুমহান ব্যক্তিত্ব, মানবিক চেতনা, মানুষকে সঠিক ও সত্যের পথে চলার দিকনির্দেশনাও প্রবন্ধে চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। তাছাড়া তাঁর মৃত্যুতে সাহাবীদের ভেঙে পড়ার বিষয়টিও প্রবন্ধে বিশেষভাবে বর্ণিত হয়েছে।
এসব বিষয় উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, প্রশ্নে প্রদত্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
(২) আনোয়ার সাহেব অত্যন্ত সৎ ও বিচক্ষণ মানুষ হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। তিনি তার কর্মস্থলে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। এ বিষয়টিতেই কিছু সহকর্মী বিরূপ দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে এবং সুযোগ পেলেই তারা তাকে অপদস্থ করার চেষ্টা করে। আনোয়ার সাহেব সব বুঝতে পারলেও তাঁর অবস্থান থেকে সরে পড়েননি বরং সৃষ্টিকর্তার কাছে তাদের জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন।
(ক) ‘তায়েফ’ কোথায় অবস্থিত?
(খ) ‘মানুষের একজন হইয়াও তিনি দুর্লভ’- কেন?
(গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত সহকর্মীদের বিরূপ দৃষ্টিভঙ্গি ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের কোন দিকটিকে আলোকপাত করে? ব্যাখ্যা কর।
(ঘ) উদ্দীপকে আনোয়ার সাহেবের মাঝে যে গুণাবলি পরিলক্ষিত হয় তা ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর
(ক) ‘তায়েফ’ সৌদি আরবের দক্ষিণে অবস্থিত।
(খ) ‘মানুষের একজন হইয়াও তিনি দুর্লভ’- কথাটি মহানবি হযরত মুহম্মদ (স.) সম্পর্কে বলা হয়েছে। কারণ তিনি মানবিক গুণাবলির এক ব্যতিক্রম আদর্শ ও সৌন্দর্যের অধিকারী ছিলেন, যা অন্য কোনো মানুষের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় না।
হযরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন মানুষের নবি। তিনি বিপুল ঐশ্বর্য, ক্ষমতা, মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মধ্যে থেকেও একজন সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করে গেছেন। মহত্ত্ব, প্রেম, দয়া, সাধুতা, ত্যাগ তাঁর অজস্র চারিত্রিক গুণের মধ্যে প্রধান। তিনি ছিলেন সাহসী, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, ক্ষমা ও সৌজন্যের আদর্শ। একজন মানুষের মধ্যে একসঙ্গে এত গুণের সমাবেশ অতি দুর্লভ। তিনি মানুষের শ্রেষ্ঠ আদর্শ। তাই বলা হয়েছে, ‘মানুষের একজন হইয়াও তিনি দুর্লভ।’
(গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত সহকর্মীদের বিরূপ দৃষ্টিভঙ্গি ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের মক্কা ও তায়েফে সত্য প্রচার করতে গিয়ে শত্রু দ্বারা মহানবি (স.)-এর প্রতি ব্যঙ্গবিদ্রূপ ও প্রস্তরঘায়ে আক্রান্ত হওয়ার দিকটিকে আলোকপাত করে।
হযরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন ক্ষমাশীল ও মানবিক। বিশ্বের সব মানুষের জন্য তিনি কল্যাণের বার্তা নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু মানুষের কাছে এ কল্যাণ বার্তা, পৌছানোর জন্য তাঁকে অনেক নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে।
উদ্দীপকের আনোয়ার সাহেব অত্যন্ত সৎ ও বিচক্ষণ মানুষ। তিনি তাঁর কর্মস্থলে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দ্বায়িত্ব পালন করেন। এ কারণে সহকর্মীরা তাঁর প্রতি বিরূপ দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। সযোগ পেলেই তারা তাঁকে অপদস্থ করার চেষ্টা করে। ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধেও দেখা যায়, মহানবি (স.) যখন মক্কা ও তায়েফে সত্য প্রচার করছিলেন তখন পৌত্তলিকদের প্রস্তরঘায়ে তিনি আহত হয়েছেন। ব্যঙ্গবিদ্রূপে বারবার তিনি উপহসিত হয়েছেন। মূলত উদ্দীপকের সহকর্মীদের বিরূপ দৃষ্টিভঙ্গি আলোচ্য প্রবন্ধের বৈরীর অত্যাচারের দিকটিকেই আলোকপাত করে।
(ঘ) উদ্দীপকে আনোয়ার সাহেবের মাঝে ক্ষমাশীলতা ও উদারতার মতো যে গুণাবলি পরিলক্ষিত হয় তা ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধেও মহানবি (.)-এর কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে।
মহানবি হযরত মুহম্মদ (স.) তাঁর মানবিক গুণাবলি দ্বারা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। মানবিক গুণাবলির মধ্যে ক্ষমা অন্যতম। তিনি তাই ঘোর শত্রুকে অভিসম্পাত না করে ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করেন।
উদ্দীপকের আনোয়ার সাহেব অত্যন্ত সৎ ও বিচক্ষণ মানুষ। তিনি তাঁর কর্মস্থলে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করেন। এ কারণে সহকর্মীরা তাঁর প্রতি বিরূপ দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে এবং সুযোগ পেলেই তাঁকে অপদস্থ করতে চেষ্টা করে। আনোয়ার সাহেব সব বুঝেও নিজ অবস্থানে অনড় থাকেন। তাদের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেন। ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে হযরত মুহম্মদ (স.)-এর মধ্যেও আমরা এমন উদারতা ও ক্ষমাশীলতা দেখতে পাই। তিনি মানুষের কল্যাণের জন্য সত্য প্রচার করতে গিয়ে শত্রুর আক্রমণ, উপহাস ও ব্যঙ্গবিদ্রূপের শিকার হয়েছেন। কিন্তু তাঁর অন্তর ভেদ করে সেসব মানুষের প্রর্থনার বাণী প্রকাশ পেয়েছে। তাদের তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন।
উদ্দীপকের আনোয়ার সাহেব ও আলোচ্য প্রবন্ধের মুহম্মদ (স.) উভয়ের কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে উদারতা ও ক্ষমাশীলতা প্রকাশ পেয়েছে। মহানুভবতার কারণেই তাঁরা শত্রুর জন্যও সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেছেন। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের আনোয়ার সাহেবের যে গুণাবলি পরিলক্ষিত হয় তা আলোচ্য প্রবন্ধেও প্রকাশ পেয়েছে।