সমাজে পরস্পরের সহযোগিতা
চতুর্থ শ্রেণি
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
(ক) জনসংখ্যায় নারী ও পুরুষের সংখ্যা কীভাবে তুলনা করা হয়?
উত্তর: আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী ও অর্ধেক পুরুষ। বর্তমান সময়ে নারী ও পুরুষ প্রায় সবাই ঘরে-বাইরে কাজ করেন। উভয়েরই সব ধরনের কাজ করার যোগ্যতা রয়েছে এবং দেশের উন্নয়নে নারী ও পুরুষের সমান অবদান রয়েছে। তাই উভয়কে সমানভাবে তুলনা করা হয়।
উত্তর: ‘বৈষম্য’ শব্দের অর্থ পার্থক্য করা। নারী-পুরুষ অথবা সব মানুষকে একে অন্যকে সমান চোখে না দেখে পার্থক্য করাকেই ‘বৈষম্য’ বলে। সমাজে নারী ও পুরুষের মাঝে কোনো বৈষম্য করা উচিত নয়।
(গ) শ্রেণিকক্ষে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন একটি শিশুর পরিচয় দাও।
উত্তর: শ্রেণিকক্ষে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু বলতে আমরা বুঝি, যার পড়া শিখতে একটু বেশি সময় লাগে। কারণ তার- ১. দেখার সমস্যা থাকতে পারে। ২. শোনায় সমস্যা থাকতে পারে। ৩. কোনো শারীরিক অসুবিধা থাকতে পারে। ৪. কেউবা মানসিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হতে পারে।
(ঘ) ‘বৈচিত্র্য‘ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ‘বৈচিত্র্য’ শব্দের অর্থ হচ্ছে ভিন্নতা। যেমন- আমরা বিভিন্ন সামাজিক অবস্থান থেকে এসেছি। সকলের মাতৃভাষা এক নয়। কারও ধর্ম আলাদা। অনেকের মা-বাবার পেশা ভিন্ন। পারিবারিক অবস্থা ভিন্ন। অর্থাৎ একজনের সাথে অন্যজনের মিল নেই। একেই ‘বৈচিত্র্য’ বলে।
(ঙ) পরিবার কাকে বলে?
উত্তর: মা-বাবা ও ভাই-বোন নিয়ে আমাদের পরিবার। কোনো কোনো পরিবারে দাদা-দাদি ও অন্যান্য আত্মীয়-পরিজন থাকে। অর্থাৎ মা-বাবা, ভাই-বোন, দাদা-দাদি ও অন্যান্য আত্মীয়-পরিজন নিয়ে একত্রে বসবাস করাকে পরিবার বলে। পরিবারে আমরা মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করি।
(চ) নারী ও পুরুষের মধ্যে কোনো বৈষম্য করা উচিত নয় কেন?
উত্তর: আমাদের দেশে জনসংখ্যার অর্ধেক নারী ও অর্ধেক পুরুষ। বর্তমান সময়ে নারী ও পুরুষ সবাই ঘরে ও বাইরে কাজ করেন। দেশের উন্নয়নে নারী ও পুরুষের সমান অবদান রয়েছে। এজন্য নারী ও পুরুষের মধ্যে কোনো বৈষম্য-করা উচিত নয়।
(ছ) আমাদের সামাজিক অবস্থান বিভিন্ন হওয়ার তিনটি কারণ লেখ।
উত্তর: আমাদের সামাজিক অবস্থান বিভিন্ন হওয়ার তিনটি কারণ হলো-
১. সকলের মাতৃভাষা এক নয়।
২. অনেকের মা-বাবার পেশা ভিন্ন।
৩. অনেকের বিশেষ চাহিদা রয়েছে।
(জ) বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখ।
উত্তর: একটি পরিবারে মেয়ে ও ছেলে শিশু সবাই সমান। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর কয়েকটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. দেখার সমস্যা থাকতে পারে।
২. শোনার সমস্যা থাকতে পারে।
৩. শারীরিক অসুবিধা থাকতে পারে।
(ঝ) কোনো সহপাঠী বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হলে আমাদের কী করা উচিত?
উত্তর: আমরা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সহপাঠীকে সাহায্য করব। তাকে বিদ্যালয়ে আসতে উৎসাহিত করব। তাকে সামনের বেঞ্চে বসতে দেব এবং তার মনে কষ্ট দেওয়া আমাদের উচিত হবে না।
(ঞ) নারী ও পুরুষের মধ্যে ভেদাভেদ থাকবে না কীভাবে?
উত্তর: শিশুকাল থেকে ছেলে-মেয়ে একসাথে কাজ করার অভ্যাস করতে পারলে নারী ও পুরুষের মধ্যে ভেদাভেদ থাকবে না।
(ট) কোনো সহপাঠী অসুস্থ হলে আমাদের কী করা উচিত?
উত্তর: কোনো সহপাঠী অসুস্থ হলে আমাদের তাকে সহযোগিতা করা উচিত।
(ঠ) তোমার শ্রেণিতে কী কী ধরনের চাহিদাসম্পন্ন শিশু থাকতে পারে? তাদের নাম লেখ।
উত্তর: আমার শ্রেণিতে নানা ধরনের চাহিদাসম্পন্ন শিশু থাকতে পারে। যেমন- দেখায় সমস্যা, শোনায় সমস্যা, শারীরিক সমস্যা, মানসিক সমস্যা প্রভৃতি চাহিদাসম্পন্ন শিশু।
(ড) একটি পরিবারে কে কে বাস করেন?
উত্তর: একটি পরিবারে মা-বাবা, ভাই-বোন, চাচা-চাচি ও দাদা-দাদি বাস করেন।
বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর
(১) পরিবারে ছেলে ও মেয়েদের সমানভাবে মূল্যায়নের একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: সাফওয়ান ও আলিয়া দুই ভাইবোন। তাদের দুজনকেই তাদের পিতামাতা সমান আদর করেন এবং সবকিছুই সমানভাবে ভাগ করে দেন। যেমন- খাদ্য, জামাকাপড়, খেলনা ইত্যাদি। সাফওয়ানের পাশাপাশি আলিয়াকেও বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেওয়া হয়েছে। তারা দুজন একসাথে বিদ্যালয়ে যায়। দুজনই পরিবারে সমান সুবিধা ভোগ করা বা সমানভাবে মূল্যায়ন পাওয়ায় তাদের মাঝে কখনো ঝগড়া হয় না। তাই তারা সবসময় হাসিখুশি থাকে।
(২) তোমার কোনো বন্ধুর ওপর রেগে গেলে তুমি কী কর?
উত্তর: আমার কোনো বন্ধুর ওপর কোনো কারণে রেগে গেলে আমি তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রকাশ করি না। কারণ তখন আমার বন্ধুটিও রেগে যেতে পারে এবং একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তাই আমি পরবর্তীতে বন্ধুটিকে রাগের কারণটি বুঝিয়ে বলি এবং আমার মতামত প্রকাশ করি। তখন উভয়ই অনুশোচনার মাধ্যমে দুঃখ প্রকাশ করে সমস্যাটি সমাধান করে ফেলি।
(৩) অনেক শিশু বিদ্যালয়ে আসতে পারে না কেন? আমাদের সামাজিক অবস্থান বিভিন্ন হওয়ার কয়েকটি কারণ লেখ।
উত্তর: মা-বাবার সাথে আয়-রোজগারের কাজে যায় বলে অনেক শিশু বিদ্যালয়ে আসতে পারে না।
আমাদের সামাজিক অবস্থান বিভিন্ন হওয়ার কয়েকটি কারণ হলো-
১. সকলের মাতৃভাষা এক নয়।
২. কারও ধর্ম আলাদা।
৩. অনেকের মা-বাবার পেশা ভিন্ন
৪. অনেকের বিশেষ চাহিদা রয়েছে।
(৪) কাদের নিয়ে আমাদের পরিবার গঠিত? পরিবারে আমরা কীভাবে বসবাস করি? পরিবার সম্পর্কে কয়েকটি বাক্য লেখ।
উত্তর: মা-বাবা ও ভাই-বোন নিয়ে আমাদের পরিবার। কোনো কোনো পরিবারে দাদা-দাদি ও অন্যান্য আত্মীয়-পরিজন থাকতে পারে। পরিবারে আমরা সবাই মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করি। পরিবার সম্পর্কে কয়েকটি বাক্য হলো-
একটি পরিবারে মেয়ে ও ছেলে শিশু সবাই সমান। পরিবারে সবারই সমান পুষ্টি, শিক্ষা গ্রহণ ও অন্যান্য সুযোগের অধিকার রয়েছে। আমরা যেমন পরিবার থেকে কিছু অধিকার ভোগ করি, তেমনি পরিবারের প্রতি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। আমরা পরিবারের বিভিন্ন কাজে ছেলে-মেয়ে সকলেই অংশগ্রহণ করব।
(৫) কাদের মাঝে বৈষম্য করা উচিত নয়? নারী ও পুরুষ একত্রে কোথায় কাজ করছেন? নারী-পুরুষকে সমান চোখে দেখা উচিত কেন?
উত্তর: নারী ও পুরুষের মাঝে কোনো বৈষম্য করা উচিত নয়। নারী ও পুরুষ একত্রে ঘরে ও বাইরে কাজ করছেন। সবখানেই নারী ও পুরুষকে সমান চোখে দেখা উচিত। কারণ, নারী ও পুরুষের সব ধরনের কাজ করার যোগ্যতা রয়েছে। এছাড়া আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যায় প্রায় অর্ধেক নারী ও অর্ধেক পুরুষ। দেশের উন্নয়নে তাদের সমান অবদান রয়েছে। এজন্য নারী ও পুরুষকে সমান চোখে দেখা উচিত।
(৬) বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু কারা? তাদের প্রতি আমাদের করণীয় কী?
উত্তর: যেসব শিশুর দেখা, শোনা ও শারীরিক অসুবিধা রয়েছে তাদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু বলা হয়। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতি আমাদের করণীয় হলো-যেসব শিশু বিদ্যালয়ে আসতে পারে না তাদের বিদ্যালয়ে আসতে উৎসাহিত করব। তাদের জীবন কীভাবে সহজ করা যায় তা আমাদের ভাবতে হবে। তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করব। তাদের সাথে মিলেমিশে থাকব। তাদের মনে কষ্ট দেওয়া আমাদের উচিত নয়। প্রয়োজনে তাদের পাশে দাঁড়াব এবং সহযোগিতা করব।