আমাদের পরিবেশ ও সমাজ
বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর
চতুর্থ শ্রেণি
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়
(ক) বাংলাদেশের উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি কীভাবে আলাদা?
উত্তর: বাংলাদেশের উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতিতে ভিন্নতা রয়েছে। উত্তর অঞ্চলের ভূমি উঁচু, নদ-নদীর সংখ্যা কম। গ্রীষ্মকালে অনেক গরম পড়ে। শীতকালে বেশ ঠান্ডা পড়ে। অন্যদিকে, দক্ষিণ অঞ্চলের ভূমি নিচু, সেখানে নদ-নদীর সংখ্যা বেশি। গ্রীষ্ম ও শীতকালে খুব বেশি গরম বা ঠান্ডা পড়ে না।
(খ) আমাদের সামাজিক পরিবেশে আর্দ্র জলবায়ুর প্রভাব কী?
উত্তর: আমাদের সামাজিক পরিবেশে আর্দ্র জলবায়ুর প্রভাব অপরিসীম। আমাদের দেশে শীত বেশি হয় বলে শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আমরা মোটা জামাকাপড় পরি। এ সময় আমরা ভিন্ন ধরনের খাবার খাই। আমরা এমনভাবে ঘরবাড়ি তৈরি করি যেন ঘর গরম থাকে। শুষ্ক এলাকায় গাছ ও ফসল কম জন্মে। এছাড়া যেসব এলাকায় জলাশয় ও নদ-নদী বেশি সেসব এলাকায় মাছের চাষ বেশি হয় এবং সহজেই সেচের কাজও করা যায়।
(গ) বাংলাদেশের উত্তর অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ কীভাবে গঠিত হয়েছে? উত্তর অঞ্চলের ভূমি কেমন? সেখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশের পাঁচটি উপাদানের নাম লেখো।
উত্তর: বাংলাদেশের উত্তর অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান নিয়ে গঠিত হয়েছে। উত্তর অঞ্চলের ভূমি উঁচু, নদ-নদীর সংখ্যা কম। এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশের পাঁচটি উপাদান হচ্ছে- ১. মাটি; ২.পানি; ৩. বাতাস; ৪. গাছপালা; ৫. পশু-পাখি।
(ঘ) পরিবেশের কোন উপাদানটি বেশি থাকলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়? বৃষ্টিপাত হলে কোন ক্ষেত্রে ভালো হয়? বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে আমরা যে সুফল ভোগ করি তা বর্ণনা করো।
উত্তর: গাছপালা বেশি থাকলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। প্রয়োজনমত বৃষ্টিপাত হলে ফসল ভালো হয়। বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে আমরা নানারকম সুফল ভোগ করি। বেশি বৃষ্টিপাত হলে নদী ও খাল-বিলে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। বৃষ্টিপাত হলে নদীতে পানি প্রবাহ বাড়ে, তাই নৌ চলাচলে সুবিধা হয়। বৃষ্টির পানি মাটির জন্য উপকারী, কেননা বৃষ্টির পানিতে মাটির উর্বরতা বাড়ে। বৃষ্টিপাতের কারণে গরম কমে গিয়ে আবহাওয়া আরামদায়ক থাকে। নলকূপ দিয়ে সেচ দিলে ভূগর্ভস্থ পানির সঞ্চয় কমে গেলে বৃষ্টির পানি তা বাড়াতে সহায়তা করে। তাই বলা যায়, বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে আমরা বেশ কিছু সুফল ভোগ করি।
(ঙ) বাংলাদেশের উত্তর অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ পাঁচটি বাক্যে ব্যাখ্যা করো। দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে দক্ষিণ অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশের ভিন্নতা রয়েছে। উত্তর অঞ্চলের ভূমি উঁচু, নদ-নদীর সংখ্যা কম। গ্রীষ্মকালে অনেক গরম পড়ে। শীতকালে বেশ ঠান্ডা পড়ে। এ এলাকাকে শুষ্ক অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. এসব জায়গায় লবণাক্ততার পরিমাণ বেশি;
২. এ অঞ্চলে জলাবদ্ধতা বেশি ও
৩. ঝড় জলোচ্ছ্বাসের সংখ্যা কম নয়।
(চ) কেমন পরিবেশে গাছ ও ফসল কম জন্মে? কী কারণে গাছ লাগানো প্রয়োজন? গাছপালার উপকারিতা বর্ণনা করো।
উত্তর: শুষ্ক প্রাকৃতিক পরিবেশে গাছ ও ফসল কম জন্মে। প্রাকৃতিক ও সামাজিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য বেশি করে গাছ লাগানো প্রয়োজন। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে গাছপালার ভূমিকা অপরিসীম। গাছপালা আমাদের বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন যোগায়। গাছপালা বেশি থাকলে বৃষ্টিপাত বেশি হয়। গাছপালা থেকে ফলসহ নানা ধরনের খাদ্য পাওয়া যায়। গাছ থেকে আমরা ঘর ও আসবাবপত্র তৈরির কাঠ পাই। একটি এলাকায় প্রয়োজনমাফিক গাছপালা থাকলে সে এলাকার পরিবেশ ঠান্ডা থাকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কম হয়। তাই, গাছপালা আমাদের উপকারি বন্ধু।
(ছ) কীভাবে বৈচিত্র্যপূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশ গড়ে ওঠে?
উত্তর: প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদানগুলোর মধ্যে যে বৈচিত্র্য রয়েছে তা নিয়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশ গড়ে ওঠে।
আমাদের চারপাশে কোথাও রয়েছে সমতল ভূমি, কোথাও উঁচু-নিচু পাহাড়-পর্বত আবার কোথাও সাগর-মহাসাগর। আবার কোথাও দেখা যায় নদ-নদী, খাল-বিল, হাওড়-বাওড়, নিচু এলাকা ইত্যাদি। একইভাবে জীবজগতে রয়েছে পিঁপড়ার মতো ছোট পোকা-মাকড় থেকে শুরু করে হাতির মতো বিশাল প্রাণী। রয়েছে বিভিন্ন রকম ফুল ও ফলের গাছ।
এমনিভাবে পৃথিবীর কোনো এলাকায় অনেক বৃষ্টি হয়, আবার কোনো এলাকা শুষ্ক মরুভূমি। কোনো এলাকার আবহাওয়া গরম, আবার কোথাও ঠান্ডা। কোনো কোনো এলাকায় বিভিন্ন ঋতুতে বিভিন্ন আবহাওয়া বিরাজ করে। যেমন- বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে গরম ও শীতকালে ঠান্ডা অনুভূত হয়। বর্ষাকালে কখনো প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যা হয়, আবার গ্রীষ্মকালে কখনো বৃষ্টির অভাবে খরা হয়। নানা উপাদানের মধ্যে ভিন্নতা থাকলেও এর সবই প্রাকৃতিক পরিবেশের অংশ। আর এসব ভিন্নতা নিয়েই বৈচিত্র্যপূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশ গড়ে ওঠে।
(জ) প্রাকৃতিক পরিবেশ কী? এ পরিবেশের দুইটি উপাদানের নাম লেখো। প্রাকৃতিক পরিবেশ কীভাবে আমাদের সমাজ জীবনকে প্রভাবিত করে তা বর্ণনা করো।
উত্তর: প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান নিয়ে যে পরিবেশ গড়ে ওঠে তাই প্রাকৃতিক পরিবেশ। এ পরিবেশের দুইটি উপাদান হলো মাটি ও আলো। প্রাকৃতিক পরিবেশ নানাভাবে আমাদের সামাজিক জীবনকে প্রভাবিত করে। এ পরিবেশের বৈচিত্র্যের কারণেই বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জীবনযাপন পদ্ধতিতে পার্থক্য লক্ষ করা যায়। আবার বাংলাদেশের উত্তর অঞ্চলের ভূমি উঁচু ও নদ-নদীর সংখ্যা কম। তবে, দক্ষিণ অঞ্চলের ভূমি নিচু এবং নদ-নদীর সংখ্যা বেশি। তাই এই দুইটি অঞ্চলের মানুষের জীবনধারণ পদ্ধতি, ঘরবাড়ি, সংস্কৃতি ও চালচলনের ওপর প্রাকৃতিক পরিবেশের ব্যাপক প্রভাব আছে।
(ঝ) সামাজিক পরিবেশের চারটি উপাদানের নাম লেখো। প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর সমাজের প্রভাব তুমি কীভাবে কমাতে পারো? বর্ণনা করো।
উত্তর: সামাজিক পরিবেশের চারটি উপাদানের নাম হলো- ১. বাড়ি, ২. বিদ্যালয়, ৩. খেলার মাঠ, ৪. রাস্তা।
প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর সমাজের প্রভাব কমাতে আমি বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে পারি। এজন্য আমি আমার সহপাঠী ও বন্ধুদের সাথে নিয়ে সবাইকে পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করতে চেষ্টা করবো। সবাইকে বেশি করে গাছ লাগানোর উপকারিতা বুঝিয়ে বলবো। কেননা, বেশি করে গাছ লাগালে যথাসময়ে বৃষ্টিপাত হবে ও আবহাওয়া ঠান্ডা থাকবে। এছাড়া এটাও বুঝিয়ে বলবো যে, নদী-নালা, খাল-বিল কোনোভাবে দখল বা ভরাট করা যাবে না। ভরাট হওয়া নদী ও খাল খনন করতে হবে। বনভূমি ধ্বংস বন্ধ ও নতুন বনায়ন করতে হবে। পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন শিল্পকারখানা স্থাপন করা থেকে আমরা বিরত থাকবো। শিল্প ও গৃহস্থালী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে হবে। আমার মনে হয়, উপরের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করে আমরা প্রকৃতির ওপর সমাজের প্রভাব কমাতে পারবো।
(ঞ) আমাদের জীবনে গাছপালার গুরুত্ব সম্পর্কে লেখো।
উত্তর: গাছপালা জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় উপাদান সরবরাহ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও পরিবেশকে সুন্দর রাখে বলে আমাদের জীবনে গাছপালার গুরুত্ব অনেক। গাছপালা অক্সিজেন উৎপাদন করে বায়ুমণ্ডলে ছেড়ে দেয়, যা আমরা গ্রহণ করি। আবার আমরা বায়ুমণ্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করি, যা গাছপালা শোষণ করে। এভাবে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে। আবার গাছপালা থেকে আমরা প্রয়োজনীয় বিভিন্ন খাদ্য পাই। আসবাবপত্র তৈরি ও জ্বালানির জন্য গাছপালা থেকে কাঠ সংগ্রহ। করি। আমাদের বাড়ির চারপাশে, বিদ্যালয়ের আঙিনায়, রাস্তার পাশে গাছপালা থাকলে সেগুলো পরিবেশকে সংরক্ষণ করে ও সুন্দর রাখে। মোটকথা, আমাদের জীবনে গাছপালার ভূমিকা ও গুরুত্ব অপরিসীম।
(ট) পরিবেশের বেশ কয়েকটি উপাদান আছে। এর মধ্যে কোন উপাদানটি বেশি থাকলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়? বৃষ্টিপাত কি আমাদের জন্য ভালো? বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে আমরা যে সুফল ভোগ করি তা চারটি বাক্যে লেখো।
উত্তর: গাছপালা বেশি থাকলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। হ্যাঁ, বৃষ্টিপাত আমাদের জন্য ভালো, কারণ প্রয়োজনমত বৃষ্টিপাত হলে ফসল ভালো হয়। বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে আমরা যে সুফল ভোগ করি তা চারটি বাক্যে লেখা হলো-
১. বেশি বৃষ্টিপাত হলে নদী ও খাল-বিলে প্রচুর মাছ পাওয়া যায় এবং নৌ চলাচলে সুবিধা হয়;
২. বৃষ্টির পানি মাটির জন্য উপকারী, কেননা বৃষ্টির পানিতে মাটির উর্বরতা বাড়ে;
৩. বৃষ্টিপাতের কারণে গরম কমে গিয়ে আবহাওয়া আরামদায়ক থাকে;
৪. নলকূপ দিয়ে সেচ দিলে ভূগর্ভস্থ পানির সঞ্চয় কমে গেলে বৃষ্টির পানি তা বাড়াতে সহায়তা করে।
(ঠ) কোন ধরনের প্রাকৃতিক পরিবেশে গাছ ও ফসল কর্ম জন্মে? বেশি করে গাছ লাগানো প্রয়োজন কেন? গাছপালার উপকারিতা সম্পর্কে চারটি বাক্য লেখো।
উত্তর: শুষ্ক প্রাকৃতিক পরিবেশে গাছ ও ফসল কম জন্মে। প্রাকৃতিক ও সামাজিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য বেশি করে গাছ লাগানো প্রয়োজন। গাছপালার উপকারিতা সম্পর্কে চারটি বাক্য হলো-
১. গাছপালা আমাদের বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন যোগায়।
২. গাছপালা বেশি থাকলে বৃষ্টিপাত বেশি হয়।
৩. গাছপালা থেকে ফলসহ নানা ধরনের খাদ্য পাওয়া যায়।
৪. গাছ থেকে আমরা ঘর ও আসবাবপত্র তৈরির কাঠ পাই।
(ড) প্রাকৃতিক পরিবেশ কী? এ পরিবেশের একটি উপাদানের নাম লেখো। প্রাকৃতিক পরিবেশের চার ধরনের বৈচিত্র্য উল্লেখ করো।
উত্তর: প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান নিয়ে যে পরিবেশ গড়ে ওঠে তাই প্রাকৃতিক পরিবেশ। এ পরিবেশের একটি উপাদান হলো মাটি। প্রাকৃতিক পরিবেশের চার ধরনের বৈচিত্র্য হলো-
১. প্রাকৃতিক পরিবেশের কোনো অঞ্চল তুষারে ঢাকা।
২. আবার কোনো কোনো অঞ্চল শুষ্ক মরুভূমি।
৩. কোনো কোনো অঞ্চলে জলবায়ু শীতল, আবার কোথাও উষ্ণ।
৪. কোনো স্থানে খরা হলে অন্য স্থানে বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হতে দেখা যায়।
(ঢ) সজিব রংপুর জেলায় বসবাস করছে। সে বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে বসবাস করছে? তার এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ পাঁচটি বাক্যে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: সজিব বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে বসবাস করছে। তার এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে দক্ষিণ অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশের ভিন্নতা রয়েছে। উত্তর অঞ্চলের ভূমি উঁচু, নদ-নদীর সংখ্যা কম। গ্রীষ্মকালে অনেক গরম পড়ে। শীতকালে বেশ ঠান্ডা পড়ে। এ এলাকাকে শুষ্ক অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
(ণ) বার্ষিক পরীক্ষার পর তমা তার বাবা-মার সাথে রাঙামাটি বেড়াতে যায়। তারা সেখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখে মুগ্ধ হলো। রাঙামাটির প্রাকৃতিক পরিবেশ কীভাবে গঠিত হয়েছে? সেখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশের পাঁচটি উপাদানের নাম লেখো।
উত্তর: রাঙামাটির প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান নিয়ে গঠিত হয়েছে। রাঙামাটির প্রাকৃতিক পরিবেশের পাঁচটি উপাদান হচ্ছে-
১. মাটি;
২. পানি;
৩. বাতাস;
৪. গাছপালা;
৫. পশু-পাখি।