প্রাথমিক বিজ্ঞান।। চতুর্থ শ্রেণি।। ১ম প্রান্তিক মূল্যায়ন।। গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
বিজ্ঞান: চতুর্থ শ্রেণি
প্রাথমিক বিজ্ঞান
চতুর্থ শ্রেণি
১ম প্রান্তিক মূল্যায়ন
(ক) সুষম খাদ্য কেন প্রয়োজন ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সুষম খাদ্য-
১. আমাদের কাজ করার শক্তি প্রদান করে।
২. দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
৩. দেহের গঠন, ক্ষয়পূরণ ও বৃদ্ধি সাধন করে।
তাই শারীরিক সুস্থতার জন্য সুষম খাদ্য প্রয়োজন।
(খ) পর্যাপ্ত পুষ্টি উপাদান পাওয়ার সহজ উপায় বর্ণনা কর।
উত্তর: পর্যাপ্ত পুষ্টি উপাদান সহজে পাওয়ার জন্য আমাদের প্রতিদিন সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। এজন্য সকাল, দুপুর ও রাতের খাবারে ছয়টি খাদ্য দলের পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ খাদ্যদ্রব্য উপস্থিত রয়েছে কি-না তা নিশ্চিত করতে হবে। মোটকথা সঠিক খাদ্য তালিকা নির্বাচনের মাধ্যমেই সহজে পর্যাপ্ত পুষ্টি উপাদান পাওয়া সম্ভব।
(গ) ভিটামিন কী? ভিটামিন ‘সি‘ এর চারটি কাজ এবং এর অভাবজনিত দুইটি রোগের নাম লেখ।
উত্তর: ভিটামিন হলো এক ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান যা দেহকে কর্মক্ষম রাখতে সহায়তা করে।
ভিটামিন ‘সি’ এর চারটি কাজ হলো-
১. দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
২. দেহের বৃদ্ধি সাধন করা।
৩. দেহকে কর্মক্ষম রাখতে সহায়তা করা।
৪. স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করা।
ভিটামিন ‘সি’ এর অভাবজনিত দুইটি রোগ হলো- ১. স্কার্ভি ও ২. মাড়ির রোগ।
(ঘ) সুষম খাদ্য কাকে বলে? সুষম খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা দুইটি বাক্যে লেখ। আদর্শ খাদ্য তালিকার তিনটি সুবিধা লেখ।
উত্তর: সকল প্রকার পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ খাদ্যকে সুষম খাদ্য বলে।
সুষম খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা হলো-
১. শরীরের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
২. শরীরকে কর্মক্ষম ও রোগমুক্ত রাখে।
৩. মোটা হওয়া বা অপুষ্টি প্রতিরোধ করে।
আদর্শ খাদ্য তালিকার তিনটি সুবিধা হলো-
১. প্রতিবেলার খাবারে প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি উপাদান রয়েছে কি-না তা নিশ্চিত করা যায়।
২. প্রতিবেলায় কোন খাদ্য কতটুকু খেতে হবে তা জানা যায়।
৩. খাবারে কোন খাদ্য উপাদান বেশি প্রয়োজন তা জানা যায়।
(ঙ) পুষ্টি উপাদান কী? পর্যাপ্ত পুষ্টি উপাদান পাওয়ার সহজ উপায় বর্ণনা কর। খাদ্য নিরাপদ রাখার তিনটি উপায় লেখ।
উত্তর: দেহের পুষ্টি চাহিদা মেটানোর জন্য খাদ্য থেকে প্রাপ্ত শর্করা, আমিষ, চর্বি, ভিটামিন এবং খনিজ লবণই হলো পুষ্টি উপাদান।
পর্যাপ্ত পুষ্টি উপাদান সহজে পাওয়ার জন্য আমাদের প্রতিদিন সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। এজন্য সকাল, দুপুর ও রাতের খাবারে ছয়টি খাদ্য দলের পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ খাদ্যদ্রব্য উপস্থিত রয়েছে কি-না তা নিশ্চিত করতে হবে। মোটকথা সঠিক খাদ্য তালিকা নির্বাচনের মাধ্যমেই সহজে পর্যাপ্ত পুষ্টি
উপাদান পাওয়া সম্ভব।
খাদ্য নিরাপদ রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তিনটি উপায় হলো-
১. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা।
২. খাদ্য টাটকা ও সতেজ রাখা।
৩. খাবার ঢেকে রাখা।
(চ) কীভাবে আমরা মাটি দূষণ রোধ করতে পারি বর্ণনা কর।
উত্তর: আমরা বিভিন্ন উপায়ে মাটি দূষণ রোধ করতে পারি। যেমন-
১. নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা।
২. মাটিতে মিশে না এমন (পলিথিন, প্লাস্টিক) জিনিসপত্রের ব্যবহার কমানো।
৩. জিনিসপত্রের রিসাইকেল বা পুনঃব্যবহারের অভ্যাস করা।
৪. জমিতে অজৈব সারের পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহার করা।
৫. জমিতে কীটনাশক ও আগাছানাশক কম ব্যবহার করা।
(ছ) জীবের জন্য মাটি গুরুত্বপূর্ণ কেন ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মাটি হচ্ছে উদ্ভিদ ও প্রাণী তথা জীবের আবাসস্থল। জীবের বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য প্রয়োজন। এ খাদ্যের বেশিরভাগই মাটি থেকে উৎপাদিত হয়। উদ্ভিদ মাটিতে জন্মায় এবং মাটি থেকেই প্রয়োজনীয় পানি ও পুষ্টি গ্রহণ করে বেঁচে থাকে। প্রাণী উদ্ভিদকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে বেঁচে আছে। এছাড়াও মানুষ কৃষি কাজে, গৃহ নির্মাণে, মৃৎশিল্পে, আবর্জনা ফেলার স্থান হিসেবে মাটি ব্যবহার করে। এসব কারণেই জীবের জন্য মাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।
(জ) মাটি কীভাবে সংরক্ষণ করা যায়?
উত্তর: উপায়ে মাটি সংরক্ষণ করা যায়। যেমন-
১. বৃক্ষরোপণ করে।
২. জমিতে ঘাস লাগিয়ে।
৩. অতিবৃষ্টির পানি ধীর গতিতে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে।
৪. ফসল আবর্তন করে মাটির উর্বরতা বাড়িয়ে।
(ঝ) মাটি কী? কী কী কারণে মাটি ক্ষয় হয়? মাটি ক্ষয়ের চারটি ক্ষতিকর দিক লেখ।
উত্তর: পৃথিবীর উপরিভাগের নরম আবরণই হচ্ছে মাটি। বায়ুপ্রবাহ বা অতি বৃষ্টির কারণে মাটির উপরের স্তর সরে গিয়ে মাটি ক্ষয় হয়। বায়ুপ্রবাহ বা অতি বৃষ্টিতে মাটির উপরে স্তর সরে গিয়ে মাটি ক্ষয় হয়। তাছাড়া গাছপালা কেটে ফেলা এবং জমির অতিরিক্ত চাষাবাদের কারণেও মাটি ক্ষয় হয়।
মাটি ক্ষয়ের চারটি ক্ষতিকর দিক হলো-
১. জমি উর্বরতা হারায়।
২. মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা হ্রাস পায়।
৩. ফসলের উৎপাদন ক্ষমতা কমে যায়।
৪. পরিবেশে ধুলাবালি সৃষ্টি করে বায়ু দূষণ বাড়ায়।
(ঞ) মাটি কাদের আবাসস্থল? মাটি সংরক্ষণ কী? মাটি দূষণ রোধের পাঁচটি উপায় লেখ।
উত্তর: মাটি উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল। মাটি সংরক্ষণ হলো মাটির ক্ষয়রোধ করা বা মাটির উর্বরতা বজায় রাখা।
মাটি দূষণ রোধের পাঁচটি উপায় হলো-
১. নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা।
২. মাটিতে পচেনা এমন জিনিসপত্রের ব্যবহার কমানো,
পুনঃব্যবহার এবং রিসাইকেল করা।
৩. জমিতে জৈব সার যেমন- কম্পোস্ট ব্যবহার করা।
৪. বনাঞ্চল রক্ষা ও বৃক্ষ রোপণ করা।
৫. জমিতে অতিরিক্ত সেচ প্রতিরোধ করা।
(ট) ক্যাকটাস ও উট কীভাবে মরুভূমিতে টিকে থাকে?
উত্তর: মরুভূমি হলো অত্যন্ত শুষ্ক স্থান যেখানে পানির পরিমাণ খুবই কম থাকে। এখানে বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে। ক্যাকটাস মরুভূমিতে জন্মানো এক ধরনের কাঁটা জাতীয় উদ্ভিদ। এ উদ্ভিদের কাণ্ড ও পাতা রসালো এবং বহিরাবরণ মসৃণ হয় যা পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে। এ বৈশিষ্ট্যের কারণেই ক্যাকটাস মরুভূমিতে খুব সহজেই টিকে থাকতে পারে। অন্যদিকে উট তার পিঠের কুঁজে চর্বি জমিয়ে রাখে। এই চর্বি উটকে দীর্ঘ সময় পানি ও খাবার ছাড়া মরুভূমির পরিবেশে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে।
(ঠ) উদ্ভিদ ও প্রাণী কেন বিলুপ্ত হয়?
উত্তর: ঝড়, বন্যা এবং খরার মতো প্রাকৃতিক কারণে পরিবেশের পরিবর্তন হয়। মানুষের বিভিন্ন কার্যকলাপের জন্যও পরিবেশের ব্যাপক পরিবর্তন হয়। পরিবেশের এ পরিবর্তনের ফলে উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে। এর ফলে উদ্ভিদ ও প্রাণী বিপন্ন বা বিলুপ্ত হয়। যেমন- ডোডো পাখি এবং তাসমেনিয়ান বাঘ পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়েছে। বাংলাদেশ থেকেও লাল শির ও জাভা গণ্ডার এবং রাজ শকুন বিলুপ্ত হয়েছে।
(ড) পেঙ্গুইন কোন অঞ্চলের প্রাণী? এই অঞ্চলের বৈশিষ্ট্যগুলো কী?
উত্তর: পেঙ্গুইন মেরু অঞ্চলের প্রাণী।
মেরু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
১. পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণে এ অঞ্চল অবস্থিত।
২. এ অঞ্চলের আবহাওয়া প্রচণ্ড ঠান্ডা এবং বেশিরভাগ জায়গা বরফে আচ্ছাদিত।
৩. এ অঞ্চলে কিছু ঘাস ও পাইন জাতীয় উদ্ভিদ দেখা যায়।
৪. এ অঞ্চলের প্রাণীর চামড়া অত্যন্ত পুরু হয় এবং পশমে ঢাকা থাকে।
৫. মেরু ভালুক, সিল, পেঙ্গুইন ইত্যাদি এ অঞ্চলে বসবাসকারী প্রাণী।
(ঢ) উদ্ভিদ এবং প্রাণীর মধ্যে ৩টি পার্থক্য লেখ।
উত্তর: উদ্ভিদ ও প্রাণীর মধ্যে ৩টি পার্থক্য নিম্নরূপ:
| উদ্ভিদ | প্রাণী |
| ১. নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করতে পারে। | ১. নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না। |
| ২. দেহে মূল, কাণ্ড এবং পাতা রয়েছে। | ২. দেহে হাত, পা, ডানা বা পাখনা রয়েছে। |
| ৩. এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলাচল করতে পারে না। | ৩. একস্থান থেকে অন্য স্থানে চলাচল করতে পারে। |
(ণ) উদ্ভিদের চারটি বৈশিষ্ট্য লেখ। সুন্দরবনে জন্মানো চারটি উদ্ভিদের নাম লেখ।
উত্তর: উদ্ভিদের চারটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. উদ্ভিদ নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করতে পারে।
২. উদ্ভিদের দেহে বিভিন্ন অংশ যেমন- মূল, কাণ্ড এবং পাতা রয়েছে।
৩. উদ্ভিদ মূলের সাহায্যে মাটি আঁকড়ে থাকে।
৪. মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে।
সুন্দরবনে জন্মানো চারটি উদ্ভিদের নাম হলো-১. সুন্দরি, ২. গরান, ৩. কেওড়া ও ৪. গোলপাতা।
(ত) আবাসস্থল ও আশ্রয়স্থলের মাঝে পার্থক্য কী?
উত্তর: আবাসস্থল ও আশ্রয়স্থলের মাঝে পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো-
| আবাসস্থল | আশ্রয়স্থল |
| ১. আবাসস্থলে উদ্ভিদ জন্ম নেয় এবং প্রাণী বাস করে। | ১. প্রাণী নিজেদের প্রয়োজনমতো নিরাপদভাবে আশ্রয়স্থল তৈরি করে। |
| ২. সকল জীবের জন্যই আবাসস্থল প্রয়োজন। | ২. শুধুমাত্র প্রাণীর জন্য আশ্রয়স্থলের প্রয়োজন। |
| ৩. আবাসস্থল উদ্ভিদ বা প্রাণীকে বিরূপ আবহাওয়া ও আক্রমণকারী প্রাণী থেকে রক্ষা করতে পারে না। | ৩. আশ্রয়স্থল প্রাণীকে বিরূপ আবহাওয়া ও আক্রমণকারী প্রাণী থেকে রক্ষা করতে পারে। |
(থ) পরিবেশ পরিবর্তনের ফলে জীব কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
উত্তর: পরিবেশ পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগ যেমন- অসময়ে বৃষ্টিপাত বা বৃষ্টিপাত হ্রাস, বন্যা, খরা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও ভূমিধ্বসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা যায়। এর ফলে মানুষ ও অন্যান্য জীবের জীবন এবং বাসস্থান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া সম্পদের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়।
(দ) একটি ইট সবুজ ঘাসের উপর কয়েক দিন রেখে দিলে চাপা পড়া ঘাসের কী ঘটবে? কেন ঘটবে?
উত্তর: একটি ইট সবুজ ঘাসের উপর কয়েকদিন রেখে দিলে ইটের নিচে চাপা পড়া ঘাসের রং হলুদ হয়ে যাবে। ঘাসগুলো আর বৃদ্ধি পাবে না।
যে কারণে এমনটি ঘটবে: ইটের নিচের সবুজ ঘাসে সূর্যের আলো পৌঁছায় না। ফলে সবুজ ঘাস খাদ্য তৈরি করতে পারে না। ঘাসের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়। তাই খাদ্য ও আলোর অভাবে ঘাসগুলো ধীরে ধীরে নিস্তেজ ও হলুদ হয়ে যাবে।
(ধ) মানুষ কীভাবে পরিবেশের পরিবর্তন করছে?
উত্তর: মানুষ নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিবেশের পরিবর্তন করছে। যেমন-
১. প্রয়োজনীয় জ্বালানি এবং গৃহনির্মাণ সামগ্রীর জন্য অনবরত গাছ কাটছে।
২. শস্য উৎপাদন, খামার, বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও কলকারখানা তৈরিতে বনভূমি নষ্ট করছে।
৩. বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক সম্পদ মাটির নিচ থেকে আহরণ করতে গাছপালা ও মাটি কেটে ফেলছে।
মানুষের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে পরিবেশের পরিবর্তন হচ্ছে।