নিমগাছ
বাংলা ১ম পত্র
০১. (i) ভোর বেলা শুরু কাজ শেষ হয় রাতে
প্রতিদিন এই নিয়ম ছাড় নেই তাতে।
নুন থেকে চুন হলে চলে রাগ-ঝাল
তবু ছিন্ন করতে পারে না এই মায়াজাল।
(ii) শিমুল গাছের চারা উপড়ে ফেললে বলাই ফুঁপিয়ে কেঁদেছিল।
(ক) নিমের হাওয়া ভালো, থাক, কেটো না। কারা বলে?
(খ) ‘একঝাঁক নক্ষত্র নেমে এসেছে যেন নীল আকাশ থেকে সবুজ সায়রে’- বুঝিয়ে লেখ।
(গ) উদ্দীপক-(i)-এ ‘নিমগাছ’ গল্পের যে দিক ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা কর।
(ঘ) “উদ্দীপক-(ii)-এর বলাই যেন ‘নিমগাছ’ গল্পের কবির প্রতিরূপ” মূল্যায়ন কর।
উত্তর
(ক) নিমের হাওয়া ভালো, থাক, কেটো না।- এই কথাটি বিজ্ঞরা বলে।
(খ) ‘একঝাঁক নক্ষত্র নেমে এসেছে যেন নীল আকাশ থেকে সবুজ সায়রে’- কথাটি দ্বারা মূলত নিমগাছে ফুটে থাকা থোকা থোকা ফুলের সৌন্দর্যের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ঔষধি গুণের কারণে নিমগাছ সবার কাছে খুবই আদরণীয় এবং যাচিত। তাই তো নিমের ছাল-বাকল, পাতা-ডাল যে যেভাবে পারে ব্যবহার করে। কিন্তু ঔষধি গুণের বাইরেও যে নিমগাছের আলাদা সৌন্দর্য রয়েছে সেটা কারও চোখেই পড়ে না। অনেকটা গুণের অর্থাৎ প্রয়োজনের আড়ালে রূপ হারিয়ে যাওয়ার মতো। কিন্তু সবুজ পাতায় ঘেরা এই গাছের ফুটন্ত ফুলের রূপ কবির চোখে ধরা পড়ে। যাকে তিনি একঝাঁক নক্ষত্রের সাথে তুলনা করেছেন। মূলত গুণের বাইরে নিমগাছের সৌন্দর্য বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত কথাটি কবি বলেছেন।
(গ) উদ্দীপক (i)-এ ‘নিমগাছ’ গল্পের যে দিক ফুটে উঠেছে তা হলো ওদের বাড়ির গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মী বউটার অবস্থা।
আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অন্যতম একটি অনুষঙ্গ হলো ঘর-গৃহস্থালির কাজ। ঘর-গৃহস্থালির কাজ যারা করেন তাদের পরিশ্রম বা কাজের মূল্য সেই অর্থে দেওয়া হয় না। বরং প্রতিদিনের একঘেয়ে কাজে যদি কখনো সামান্য একটু ভুল হয়ে যায় তখন তাদের ওপর রাগ দেখানো হয়।
‘নিমগাছ’ গল্পে লেখক নিমগাছকে প্রতীক করে গৃহকর্মে নিপুণা বউটার অবস্থাই তুলে ধরেছেন। নিমগাছের মতোই সবাই শুধু তার সেবার অংশটুকুই নেয় কিন্তু কেউ তার যত্ন করে না, প্রশংসা করে না। তার এক সময় মনে হয় সবকিছু ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাবে। কিন্তু নিমগাছের শিকড়ের মতো সেও সংসারের মায়ায় আটকে গেছে তাই যেতে পারে না। উদ্দীপকেও এমনই একজনের কথা অবতারণা করা হয়েছে, যে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করে যায়। সামান্য ভুলে সবাই রাগারাগি করে। তারপরও সে মায়াজাল ছিন্ন করে যেতে পারে না।
তাই বলা যায়, উদ্দীপক (i)-এ ‘নিমগাছ’ গল্পের যে বিষয়টি ফুটে উঠেছে তা হলো গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মী বউয়ের অবস্থা।
(ঘ) “উদ্দীপক (ii)-এর বলাই যেন ‘নিমগাছ’ গল্পের কবির প্রতিরূপ”- উক্তিটি যথার্থ।
আমাদের পারিবারিক জীবনে এমন অনেক মানুষ আছে যারা সারা জীবন অন্যের কাছ থেকে সেবা নিতে ব্যস্ত, কিন্তু সেবাদানকারীর কোনো মূল্য তারা দেয় না। তাদের যত্ন করে না। বরং সবার কাছে সেবাদানকারীরা অবহেলিত, শোষিত থাকে। তবে অনেক সময় দেখা যায় এমন কিছু মানুষ থাকে যারা তাদের মূল্য বোঝে। সবাইকে সেবাদানের বাইরেও যে তাদের আলাদা আবেগ-অনুভূতি আছে এগুলো তারা উপলব্ধি করতে পারে।
উদ্দীপক (ii)-এর বলাই এমনই একজন। তাকে দেখা যায়, গাছের উপকারিতার জন্য নয়, সে গাছকে প্রকৃত অর্থেই ভালোবাসে। তাই তো শিমুল গাছের চারা উপড়ে ফেললে বলাই ফুঁপিয়ে কেঁদেছিল। আবার কেউ ঢিল দিয়ে আমলকী পাড়লে সে কষ্ট পেয়েছে। আসলে বলাই বৃক্ষের গুণের জন্যই শুধু নির্বিচারে গাছকে ব্যবহার করতে চায়নি। সে গাছের প্রতি মমত্বশীল ও যত্নশীল আচরণ করেছে।
‘নিমগাছ’ গল্পে এমনই এক চরিত্র হলেন কবি। যেখানে সকলে নিমগাছের সার অংশ নেওয়ার জন্য তার নানা অংশ নির্বিচারে ব্যবহার করে সেখানে কবির মধ্যে ফুটে ওঠে ভিন্ন মানসিকতা। তিনি গাছের কোনো অংশ নেন না, বরং গাছে থোকায় থোকায় ফুটে থাকা ফুল দেখে মুগ্ধ হন। যার মধ্য দিয়ে আসলে মমত্বশীল ও যত্নশীল অভিব্যক্তি প্রকাশ পায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপক (ii)-এর বলাই যেন ‘নিমগাছ’ গল্পের কবির প্রতিরূপ।
০২. বিধবা আম্বিয়া বেগম অবসরের সমস্ত টাকা ব্যয় করে দুই পুত্র ও এক কন্যাকে লেখাপড়া শিখিয়ে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেরা পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকে। তাদের সুখের কথা চিন্তা করে তিনি খুব আনন্দ পান, যদিও তাঁর দেখাশোনার মতো কেউ নেই। পুত্রদের সংবাদ দিলেও চাকরি নিয়ে ব্যস্ত থাকায় আসতে পারে না। এক সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন আম্বিয়া বেগম। অবস্থা খারাপ হলে প্রতিবেশী দিনমজুর জবেদ আলির ছেলে আশিক তাকে দেখতে আসে। সব কথা শুনে আশিক তাঁর অনেক প্রশংসা করে। সে বলে “আপনার মতো মা ঘরে ঘরে দরকার।”
(ক) ‘শিলে পেষা’ অর্থ কী?
(খ) “সে আর-এক আবর্জনা” বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(গ) উদ্দীপকের আশিকের সাথে ‘নিমগাছ’ গল্পের যে চরিত্রের সাদৃশ্য আছে তা ব্যাখ্যা কর।
(ঘ) “উদ্দীপকের আম্বিয়া বেগম ও ‘নিমগাছ’ গল্পের লক্ষ্মী বউ যেন একই সূত্রে গাঁথা”- মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার কর।
উত্তর
(ক) ‘শিলে পেষা’ অর্থ ‘শিল-পাটায় বাটা’।
(খ) “সে আর-এক আবর্জনা” বলতে নিমগাছকে শান দিয়ে বাঁধিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
নিমগাছ মানুষ ও পরিবেশের জন্য উপকারী। বাড়িতে এই গাছ জন্মালে মানুষ এটি কাটে না। আবার কেউ এটির যত্নও করে না। তাই আবর্জনা এসে জমে চারদিকে। কেউ আবার নিমগাছের প্রয়োজনীয়তার কথা ভেবে এটির চারদিকে শান দিয়ে বাঁধিয়েও দেয়। ইট ও সিমেন্ট দিয়ে এভাবে বাঁধানোর বিষয়টি নিমগাছের কাছে বাড়তি জঞ্জাল বলেই মনে হয়। তাই এটিকে আবর্জনা মনে করা হয়েছে। প্রশ্নোক্ত কথায় এটাই বোঝানো হয়েছে।
(গ) উদ্দীপকের আশিকের সাথে ‘নিমগাছ’ গল্পের কবি চরিত্রের সাদৃশ্য আছে।
পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ রয়েছে, যারা অবজ্ঞা ও অবহেলায় সারাটি জীবন পার করে। কেউ তাদের গুরুত্ব দেয় না। অথচ তাদের উপকার ভোগ করে। আবার কখনো কখনো তাদের জীবনে হঠাৎ কোনো ব্যতিক্রমী মানুষের সাক্ষাৎ মেলে, যারা তাদের প্রশংসার মাধ্যমে অবহেলিত মানুষের জীবনে মুহূর্তের জন্য হলেও সুখের পরশ বুলিয়ে দেয়।
উদ্দীপকে বিধবা আম্বিয়া বেগমের অবহেলিত জীবনের কথা বলা হয়েছে। তিনি তার সমস্ত টাকা-পয়সা ব্যয় করে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাদের বিয়ে দিয়েছেন। তারা পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকেন। তাঁর অসুস্থতার খবর পেলেও ছেলেরা চাকরির ব্যস্ততায় আসতে পারেন না। শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে প্রতিবেশীর ছেলে আশিক তাকে দেখতে আসে এবং সন্তানদের জন্য আত্মত্যাগের কারণে তাঁর প্রশংসা করে। এখানে আশিকের সাথে ‘নিমগাছ’ গল্পের ‘কবি’ চরিত্রটি মিলে যায়। গল্পে নিমগাছ অন্যের উপকার করলেও কেউ তার গুরুত্ব দেয় না। সবাই তার কাছ থেকে কেবল উপকারই ভোগ করে। কিন্তু একদিন এক কবি এসে নিমগাছের রূপ ও গুণের প্রশংসা করে। এমন প্রশংসা সে আর কখনো পায়নি। সুতরাং দেখা যায়, গল্পের কবির সঙ্গে উদ্দীপকের আশিক চরিত্রটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
(ঘ) “উদ্দীপকের আম্বিয়া বেগম ও ‘নিমগাছ’ গল্পের লক্ষ্মী বউ যেন একই সূত্রে গাঁথা”- মন্তব্যটি যথার্থ।
সংসারে নারীর আত্মত্যাগের মূল্য কেউ সহজে দিতে চায় না। অথচ তার কাছ থেকে উপকার গ্রহণ করতে কেউ কুণ্ঠিত হয় না। নারী তার সর্বস্ব দিয়ে সংসারকে আগলে রাখলেও কারও কাছ থেকে সামান্য যত্ন বা ভালোবাসা পায় না।
উদ্দীপকে বিধবা আম্বিয়া বেগম সর্বস্ব দিয়ে সন্তানদের মানুষ করেন এবং তাদের সব দায়িত্ব পালন করেন। অথচ নিজের অসুস্থ অবস্থায়ও তিনি সন্তানদের কাছে পান না। সন্তানদের জন্য ত্যাগ স্বীকার করলেও তার সামান্য মূল্যায়নও তিনি পান না। এমন ঘটনা প্রতিটি পরিবারের অন্তরালেই হয়তো ঘটে, যা ‘নিমগাছ’ গল্পে উপস্থাপিত হয়েছে।
‘নিমগাছ’ গল্পে লেখক নিমগাছের প্রতীকে বাড়ির গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মী বউয়ের জীবনচিত্র অঙ্কন করেছেন। প্রতিটি নারীই সংসারকে ভালোবেসে অনেক ত্যাগ স্বীকার করে। অথচ সে সংসারে অবহেলিত জীবন কাটায়। কেউ তার যত্ন নেয় না। তার ভালো-মন্দ, সুখ-দুঃখের খবর কেউ রাখে না। তার মানবিক মর্যাদার ইতিহাস কেউ জানে না। পারিবারিক ও সামাজিক গুরুত্বের খবর কেউ রাখে না। জীবন ভাগ্যের পরিণতিতে গল্পের এই লক্ষ্মী বউ ও উদ্দীপকের আম্বিয়া বেগম যেন একই সূত্রে গাঁথা।
০৩. সব সাধকের বড় সাধক আমার দেশের চাষা,
দেশ মাতারই মুক্তিকামী, দেশের সে যে আশা।
দধীচি কি তাহার চেয়ে সাধক ছিল বড়?
পুণ্য অত হবে নাক সব করিলেও জড়ো।
মুক্তিকামী মহাসাধক মুক্ত করে দেশ,
সবারই সে অন্ন জোগায় নাইক গর্ব লেশ।
ব্রত তাহার পরের হিত, সুখ নাহি চায় নিজে,
রৌদ্র দাহে শুকায় তনু, মেঘের জলে ভিজে।
(ক) ‘নিমগাছ’ গল্পটি বনফুলের কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
(খ) কবিরাজরা নিমগাছের প্রশংসায় পঞ্চমুখ কেন? বুঝিয়ে লেখ।
(গ) উদ্দীপকের সাথে ‘নিমগাছ’ গল্পের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি তুলে ধর।
(ঘ) উদ্দীপকটি ‘নিমগাছ’ গল্পের মূলভাবকে ধারণ করেছে কি? তোমার মতামত ব্যক্ত কর।
উত্তর
(ক) ‘নিমগাছ’ গল্পটি বনফুলের ‘অদৃশ্যলোক’ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
(খ) ঔষধি গুণের কারণে কবিরাজরা নিমগাছের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
নিমগাছ ঔষধি গাছ। নিমপাতা চর্মরোগের অব্যর্থ মহৌষধ। খোস-পাঁচড়া, দাদ, হাজা, চুলকানিতে নিমপাতা ও নিমগাছের ছাল অত্যন্ত উপকারী। নিমের কচিপাতা যকৃতের জন্য অত্যন্ত উপকারী। নিমের কচি ডাল চিবালে দাঁত ভালো থাকে। আর এসব ঔষধি গুণের কারণে কবিরাজরা নিমগাছের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
(গ) উদ্দীপকের সাথে ‘নিমগাছ’ গল্পের লক্ষ্মী বউটির পরিবারের জন্য স্বার্থহীন কাজ করে’ যাওয়ার দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
একটি পরিবারের সবকিছুর দায়িত্ব ন্যস্ত থাকে একজন গৃহবধূর ওপর। সংসার বৃত্তের মধ্যেই এগিয়ে চলে তার জীবন, কেটে যায় দীর্ঘ সময়। এই দীর্ঘ সময়ের তলে চাপা পড়ে যায় তার ব্যক্তিগত সব ভালো লাগা, মন্দ লাগা, ইচ্ছা-অনিচ্ছা।
‘নিমগাছ’ গল্পে নিমগাছের রূপকে মূলত গৃহকর্ম-নিপুণা এক গৃহবধূর জীবনচিত্র অঙ্কিত হয়েছে। গৃহের গণ্ডিতে আবদ্ধ তার জীবন। পরিবারের প্রতিটি মানুষের জন্য তিনি অহর্নিশ কাজ করেন; বিসর্জন দেন নিজের সব ইচ্ছা, ভালো লাগা। কিন্তু বিনিময়ে তিনি পান না কিছুই। উদ্দীপকে আমাদের দেশের কৃষককে সব সাধকের বড় সাধক বলা হয়েছে। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে সকলের জন্য সে শষ্য চাষ করে। কিন্তু সে বিন্দু পরিমাণ গর্ব করে না। নিঃস্বার্থভাবে আপন কাজ করে যায়। উদ্দীপকের সাথে ‘নিমগাছ’ গল্পের লক্ষ্মী বউটির পরিবারের জন্য স্বার্থহীন কাজ করে যাওয়ার দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
(ঘ) হ্যাঁ, উদ্দীপকটি ‘নিমগাছ’ গল্পের মূলভাবকে ধারণ করেছে।
সংসারের বেড়াজালে একবার আটকে গেলে মানুষের পক্ষে সেই বেড়াজাল ছিন্ন করা সম্ভব হয় না। নানা দায়-দায়িত্ব তার কাঁধে চাপে। ইচ্ছা করলেও তিনি সেগুলো এড়াতে পারেন না। খুব কম মানুষই তার পরিশ্রম, সেবা ও ত্যাগের বিনিময়ে সংসার থেকে কিছু পান। তবু তারা কাজ করা বন্ধ করেন না।
‘নিমগাছ’ গল্পের গৃহবধূ সংসারে যেন এক যন্ত্রে পরিণত হয়েছেন। সবার আত্মতৃপ্তির জন্য তিনি সংসারের সব কাজ করে যান। নিজে কষ্ট সহ্য করে সবাইকে খুশি রাখেন। ইচ্ছা করলেও তিনি এই বন্ধন ছিন্ন করতে পারেন না। উদ্দীপকের কৃষকও তেমনই রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে ফসল ফলান। মানুষের জন্য খাদ্যের জোগান দেন। কিন্তু তিনি কোনো গর্ব করেন না। এমনকি সমাজ বা দেশের কাছে তাদের প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদাটুকুও পান না। সবাই তাদের চাষা বলে হেয় প্রতিপন্ন করে। তবু তিনি কাজ করা বন্ধ করেন না। যা ‘নিমগাছ’ গল্পের মূলভাবকে ধারণ করে।
উদ্দীপকের কৃষক এবং ‘নিমগাছ’ গল্পের লক্ষ্মীবউ উভয়ের জীবনই সংসারের বৃত্তে আবদ্ধ। সেই বৃত্তে তারা এমনভাবে আবদ্ধ যে, চাইলেও সেখান থেকে তারা বের হতে পারেন না। এভাবে তাদের জীবন একসূত্রে গাঁথা। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘নিমগাছ’ গল্পের মূলভাবকে ধারণ করেছে।
০৪. অংশ-১:সালমান সাহেবের বাড়িতে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে কাজ করেন রহিমা। সালমান সাহেব সবসময় তাঁর কাজের প্রশংসা করেন এবং তাঁকে যথাযথ সম্মান ও পারিশ্রমিক দেন।
অংশ-২: এ সংসারে এসেছিলাম ন বছরের মেয়ে তারপরে এই পরিবারের দীর্ঘ গলি বেয়ে দশের ইচ্ছা বোঝাই করা এই জীবনটা টেনে টেনে শেষে পৌছিনু আজ পথের প্রান্তে এসে। সুখের দুঃখের কথা একটুখানি ভাবব এমন সময় ছিল কোথা।
(ক) ‘কবিরাজ’ অর্থ কী?
(খ) ‘মাটির ভিতরে শিকড় অনেক দূরে চলে গেছে’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(গ) উদ্দীপকের অংশ-১ এর সালমান সাহেবকে ‘নিমগাছ’ গল্পে বর্ণিত কার সাথে মেলানো যায়? ব্যাখ্যা কর।
(ঘ) “উদ্দীপকের অংশ-২ এ বর্ণিত গৃহবধূর জীবন আর ‘নিমগাছ’ গল্পের লক্ষ্মীবউটার জীবন একই সূত্রে গাঁথা”- মন্তব্যটির যথার্থতা যাচাই কর।
উত্তর
(ক) ‘কবিরাজ’ শব্দের অর্থ- যিনি গাছগাছালি পরিশোধন করে মনুষ্যরোগের চিকিৎসা করেন।
(খ) সাধারণভাবে নিমগাছের শিকড় মাটির গভীরে প্রবেশ করা এবং বিস্তৃত হওয়া বোঝালেও এ ক্ষেত্রে প্রতীকী অর্থে মানুষের প্রাত্যহিক প্রয়োজনের সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
নিমগাছ একটি ঔষধি বৃক্ষ। এই গাছের রয়েছে নানা গুণ ও উপকারিতা। অথচ কেউ এই গাছের যত্ন নেয় না। একদিন এক লোক এসে শুধু এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল এবং নিমের ফুলগুলোকে এক ঝাঁক নক্ষত্রের সঙ্গে তুলনা করল। তাঁর প্রশংসায় মুগ্ধ নিমগাছটি তাঁর সঙ্গে চলে যেতে চাইল। কিন্তু যাওয়া হয় না। বস্তুত এখানে নিমগাছের প্রতীকী অর্থে গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মীবউটির সংসারের প্রাত্যহিক কর্তব্য, দায়িত্ব ও মায়ায় জড়িয়ে যাওয়া বোঝানো হয়েছে। মাটির নিচে গাছের শিকড় যেমন অনেক দূর বিস্তৃত তেমনই বিস্তৃত গৃহবধূর কর্মপরিধি ও মমত্ববোধ। সংসারের বেড়াজালে আবদ্ধ গৃহবধূর কর্তব্য ও দায়িত্বের পরিধিও অনেক। এসব বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
(গ) উদ্দীপকের অংশ-১ এর সালমান সাহেবকে ‘নিমগাছ’ গল্পে বর্ণিত কবির সঙ্গে মেলানো যায়।
কর্মীর ভালো কাজের প্রশংসা এবং তার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা প্রত্যেকের উচিত। এতে যেমন তার কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি পায় তেমনই মানুষ হিসেবে তাকে যথার্থ মূল্য প্রদান করা হয়। অন্তহীন পরিশ্রমের পরেও যদি মানুষ তার কাজের প্রশংসা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয় তবে সে নিজের প্রতি বিতৃষ্ণ হয়ে পড়ে, ফলে কর্মোদ্যম হারিয়ে ফেলে।
উদ্দীপকের অংশ-১ আমরা দেখি সালমান সাহেবের বাড়িতে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে রহিমা কাজ করেন। সালমান সাহেব সব সময় তাঁর কাজের প্রশংসা করেন এবং তাঁকে যথাযথ সম্মান ও পারিশ্রমিক দেন। অন্যদিকে ‘নিমগাছ’ গল্পে মানুষের সর্বময় উপকারে কাজে লাগা একটি নিমগাছের প্রতি অত্যন্ত অযত্ন ও অবহেলার দিকটি আমরা দেখতে পাই। একদিন এক কবি এসে নিমগাছের রূপের ও গুণের প্রশংসা করেন। নিমগাছের প্রতি কবির এই প্রশংসা উদ্দীপকের অংশ-১ এর সালমান সাহেবের গৃহকর্মী রহিমার কাজের প্রতি প্রশংসার সমতুল্য। অর্থাৎ ‘নিমগাছ’ গল্পের ‘কবি’ চরিত্রটির বিমূর্ত প্রতীক উদ্দীপকের অংশ-১ এর সালমান সাহেব।
তাই উদ্দীপকের অংশ-১ এর সালমান সাহেবকে ‘নিমগাছ’ গল্পে বর্ণিত কবির সঙ্গে মেলানো যায়।
(ঘ) “উদ্দীপকের অংশ-২ এ বর্ণিত গৃহবধূর জীবন আর ‘নিমগাছ’ গল্পের লক্ষ্মীবউটার জীবন একই সূত্রে গাঁথা”- মন্তব্যটি যথার্থ।
সংসারের বেড়াজালে একবার আটকে গেলে একজন নারীর পক্ষে সেই বেড়াজাল ছিন্ন করা সম্ভব হয় না। সংসারের নানা দায়-দায়িত্ব তার কাঁধে চাপে। ইচ্ছা করলেও তিনি সেগুলো এড়াতে পারেন না। খুব কম নারীই তার পরিশ্রম, সেবা ও ত্যাগের বিনিময়ে সংসার থেকে কিছু পান।
‘নিমগাছ’ গল্পের গৃহবধূ সংসারে যেন একটা যন্ত্রে পরিণত হয়েছেন। সবার আত্মতৃপ্তির জন্য তিনি সংসারের সব কাজ করে যান। নিজে কষ্ট সহ্য করে সবাইকে খুশি রাখেন। ইচ্ছা করলেও তিনি এই বন্ধন ছিন্ন করতে পারেন না। উদ্দীপকের অংশ-২ এর গৃহবধূর অবস্থাও অনুরূপ। তিনিও পরিবারের সবার ইচ্ছা পূরণ করে চলছেন। নিজের জীবন টেনে নিয়ে চলেছেন দীর্ঘ সময় ধরে। তিনি নিজ সুখের কথা ভেবে পরিবারের বন্ধন ছিন্ন করতে পারেননি।
উদ্দীপকের অংশ-২ এ বর্ণিত গৃহবধূ এবং ‘নিমগাছ’ গল্পের লক্ষ্মীবউ উভয়ের জীবনই সংসারের বৃত্তে আবদ্ধ। সেই বৃত্তে তারা এমনভাবে আবদ্ধ যে, চাইলেও সেখান থেকে তারা বের হতে পারেন না। এভাবে তাদের জীবন একসূত্রে গাঁথা।
০৫. কলি ও নিপুনের ছয় বছরের সংসারে দুইটি ফুটফুটে সন্তান রয়েছে। নিপুনের মা-বাবা বৃদ্ধ হওয়ায় কলি নিজের মা-বাবার মতো সেবাযত্ন দিয়ে তাদের আগলে রেখেছে। নিপুন একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকরি করে। সংসারের প্রতি মন দেওয়ার সময় নেই তার। কলি সন্তানদের স্কুলে আনা-নেওয়া, রান্না-বান্না, বাজার করাসহ সংসারের যাবতীয় কাজ করে থাকে। কিন্তু সামান্য ছোটখাটো বিষয় নিয়ে নিপুন কলির সাথে কলহ করে। সে কলিকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। কিন্তু সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে কলি নিপুনের শত লাঞ্ছনা সহ্য করে যাচ্ছে।
(ক) বনফুলের প্রকৃত নাম কী?’
(খ) ‘নিমের হাওয়া ভালো, থাক, কেটো না’- কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
(গ) উদ্দীপকের নিপুনের আচরণের সাথে ‘নিমগাছ’ গল্পের কোন দিকের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
(ঘ) ‘উদ্দীপকের কলি যেন বাঙালি নারীর বাস্তব প্রতিচ্ছবি’-‘নিমগাছ’ গল্পের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
(ক) বনফুলের প্রকৃত নাম বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়।
(খ) নিমের হাওয়া ভালো, থাক, কেটো না’- কথাটি দ্বারা নিমগাছের উপকারী দিক বিবেচনায় তা না কাটাকে বোঝানো হয়েছে।
সাধারণ অর্থে নিমগাছ একটি ঔষধি গুণসম্পন্ন গাছ। এ গাছ আপনা-আপনি বেড়ে ওঠে। এ গাছের যত্ন না করলেও ঔষধি গুণ রয়েছে। নিমগাছের হাওয়া শরীরের জন্য উপকারী কারণ এটি আশেপাশের বাতাস বিশুদ্ধ রাখে। নিমগাছের কারণে বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি থাকে। তাই বাড়ির পাশে নিমগাছ গজালে বিজ্ঞরা প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেন।
(গ) উদ্দীপকের নিপুনের আচরণের সঙ্গে ‘নিমগাছ’ গল্পের গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মীবউটির প্রতি অবহেলা’ ও অমানবিক আচরণের দিকের সাদৃশ্য রয়েছে।
পুরুষশাসিত সমাজে নারীরা প্রতিনিয়তই নানা রকম অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হয়। অথচ পরিবার, সমাজ সব ক্ষেত্রেই নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পুরুষরা কৃতজ্ঞচিত্ত নারীদের সেসব অবদানকে স্বীকার না করে তাদের অবহেলা ও অবমূল্যায়ন করে।
উদ্দীপকে সংসারের যাবতীয় কাজে গভীর মনোযোগী কলির প্রতি তার স্বামী নিপুনের অবহেলার দিকটি লক্ষ করা যায়। নিপুন বহুজাতিক কোম্পানির একজন চাকরিজীবী। সংসারের দিকে মন দেওয়ার তার কোনো সময় নেই। নিপুনের বাবা-মাকে সেবা-যত্ন, সন্তানদের দেখাশোনা, তাদেরকে স্কুলে আনা-নেওয়া করা, রান্নাবান্না করাসহ সমস্ত কাজই করে তার স্ত্রী কলি। অথচ ছোটখাটো বিষয়কে কেন্দ্র করে নিপুন কলির সঙ্গে ঝগড়া করে। তাকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। তার এই আচরণ ‘নিমগাছ’ গল্পের গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মীবউটির প্রতি পরিবারের লোকজনের অবহেলার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। সাধারণ অর্থে নিমগাছের উপকারীভোগীরা যেমন নিমগাছের ছাল, পাতা, ডাল ভেঙে নিয়ে অমানবিকতার পরিচয় দেয়, তেমনই অমানবিকতার শিকার গৃহলক্ষ্মী বউটি। সে সংসারে সবার জন্য খেটেও চরম অবহেলার শিকার হয় যা উদ্দীপকের নিপুনের আচরণে প্রকাশ পেয়েছে।
(ঘ) “উদ্দীপকের ‘কলি’ যেন বাঙালি নারীর বাস্তব প্রতিচ্ছবি”-‘নিমগাছ’ গল্পের আলোকে মন্তব্যটি যথার্থ।
উপকারীর উপকার স্বীকার করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। অথচ বহু ক্ষেত্রেই তা করা হয় না। আমাদের সমাজে স্বার্থপর ব্যক্তিরা নিঃস্বার্থ ব্যক্তির ত্যাগ মনে রাখতে চায় না। পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীরা এ ক্ষেত্রে বেশি অবহেলিত। পরিবারের সবার প্রতি যত্নবান হলেও একজন নারী কারও দৃষ্টিতে নন্দিত হয়ে ওঠেন না।
উদ্দীপকে সংসারের প্রতি গভীর মনোযোগী নারীর প্রতি পুরুষের অবহেলা ও মানসিক নির্যাতনের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। এখানে ‘গৃহবধূ কলি তার সন্তান, সংসার গভীর মনোযোগ দিয়ে আগলে রাখলেও সামান্য বিষয় নিয়ে স্বামী নিপুনের অবহেলার শিকার। নিপুনের বাবা-মাকে নিজের মা-বাবার মতো সেবা-যত্ন দিয়ে আগলে রাখলেও নিপুন কলিকে তার যোগ্য মর্যাদা দেয় না। সে বহুজাতিক কোম্পানির চাকরি নিয়ে ব্যস্ত থাকে। সন্তানদের স্কুলে আনা-নেওয়াসহ সংসারের সমস্ত কাজই কলি একা করে থাকে। অথচ সেসব কাজের কোনো মূল্যায়ন সে পায় না। এ বিষয়টি ‘নিমগাছ’ গল্পের গৃহলক্ষ্মী বউটির সংসারের’ সব কাজ করেও মূল্যায়ন না পাওয়ার সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা। এই গল্প লেখক দেখিয়েছেন পরিবারে নারীর আত্মত্যাগ ও অবমূল্যায়িত হওয়ার বিষয়টি।
‘নিমগাছ’ গল্পে নিমগাছের প্রতীকে লেখক গৃহকর্ম-নিপুণা এক লক্ষ্মীবউয়ের জীবন-যন্ত্রণাকে নির্দেশ করেছেন। সেই বউ শ্বশুরবাড়িতে সবার জন্য নিবেদিতপ্রাণ, অথচ তার প্রতি কেউ সদয় নয়। সেই জীবন থেকে সে মুক্তি চাইলেও সংসারের শিকড় ছিন্ন করে আসতে পারে না। উদ্দীপকের কলিও সংসারে সবার জন্য সারা দিন খেটেও যথাযোগ্য মর্যাদা পায় না। সন্তান ও সংসার নিয়ে দিন কাটলেও স্বামীর অবহেলার শিকার হয়। এই দিক বিবেচনায় বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
০৬. সাজেদা স্বামীর সংসারে এসে দেখল, এখানে তার অনেক দায়িত্ব। সংসারের প্রতিটি কাজেই তাকে প্রয়োজন। আস্তে আস্তে সে সংসারে গভীরভাবে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। কিন্তু অন্যদের কাছে তার কাজের তেমন গুরুত্ব নেই। সংসারের কঠিন মায়াজাল থেকে তার আর বেরোবারও সুযোগ নেই।
(ক) নিমগাছ কোন রোগের মহৌষধ?
(খ) বাড়ির পাশে নিমগাছ গজালে বিজ্ঞরা খুশি হন কেন?
(গ) উদ্দীপকের সাথে ‘নিমগাছ’ গল্পের সাদৃশ্য বর্ণনা কর।
(ঘ) উদ্দীপকটি ‘নিমগাছ’ গল্পের সমগ্র ভাব ধারণ করেছে কি? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।
উত্তর
(ক) নিমগাছ চর্মরোগের মহৌষধ।
(খ) নিমগাছ ভেষজ গুণসম্পন্ন গাছ- এ কারণেই এ গাছ বাড়ির পাশে গজালে বিজ্ঞরা খুশি হন।
নিমগাছ মানুষের জন্য খুবই উপকারী। নিমগাছ পরিবেশবান্ধব, পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখে। এছাড়া এ গাছের বিভিন্ন অংশ মানুষের অনেক রোগের উপশম ঘটায়। পাতা, ফুল, ফল, ছাল, কাঠ আর শিকড় সবকিছুতেই রয়েছে রোগ নিরাময়ের ক্ষমতা। যারা বিজ্ঞ তারা ভালো জিনিসের মূল্য বোঝেন। এ কারণেই নিমগাছ বাড়ির পাশে গজালে বিজ্ঞরা খুশি হন।
(গ) উদ্দীপকের সঙ্গে ‘নিমগাছ’ গল্পের সাদৃশ্য হলো গৃহবধূর বৃত্তাবদ্ধ ও অবহেলিত জীবনের।
সংসারে নারী অসামান্য অবদান রাখে। অথচ অনেক ক্ষেত্রেই তাদের অবদান স্বীকার করা হয় না। সংসারে একজন নারী নিজে কষ্ট করে সবার প্রয়োজন মেটালেও কেউ তার যথাযথ খোঁজখবর নেয় না। তার প্রতি সবার চরম অবহেলা প্রকাশ পায়।
উদ্দীপকের সাজেদা স্বামীর সংসারে এসে দেখে এখানে তার অনেক দায়িত্ব। সংসারের প্রতিটি কাজেই তাকে প্রয়োজন। সে সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেয়। ধীরে ধীরে সংসারে গভীরভাবে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। কিন্তু অন্যদের কাছে তার কাজের কোনো গুরুত্ব নেই। এ অবস্থায় সংসারের কঠিন মায়াজাল থেকে বের হওয়ারও তার সুযোগ নেই। ‘নিমগাছ’ গল্পে নিমগাছের রূপকে মূলত গৃহকর্ম-নিপুণা-এক গৃহবধূর জীবনচিত্র অঙ্কিত হয়েছে। গৃহের গণ্ডিতে আবদ্ধ তার জীবন। পরিবারের প্রতিটি মানুষের কাজে লাগে সে। এমনকি সে বিসর্জন দেয় নিজের সব ইচ্ছা ও ভালো লাগা। কিন্তু বিনিময়ে সে কেবল অবহেলাই অর্জন করে। মূলত উদ্দীপক ও ‘নিমগাছ’ গল্পে গৃহবধূর বৃত্তাবদ্ধ ও অবহেলিত জীবনের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
(ঘ) হ্যাঁ, উদ্দীপকটি ‘নিমগাছ’ গল্পের সমগ্র ভাব ধারণ করেছে।
সমাজে নারীরা মূল্যায়িত হয় না। তারা সমাজ ও পরিবারের মানুষ দ্বারা অবেহলা ও অমর্যাদার শিকার হয়। অথচ তাদেরও যে থাকতে পারে ব্যক্তিগত সব ভালো লাগা ও মন্দ লাগা সে কথা কেউ ভাবেও না। প্রত্যেক মানুষেরই উচিত তাদের যত্ন নেওয়া, সহযোগিতা করা এবং যথাযথ মূল্যায়ন করা।
‘নিমগাছ’ গল্পে নিমগাছের প্রতীকে লেখক গৃহকর্ম-নিপুণা এক লক্ষ্মীবউয়ের জীবনযন্ত্রণাকে নির্দেশ করেছেন। সেই গৃহবধূ পরিবারের সবার জন্য নিবেদিতপ্রাণ। অথচ পরিবারের কেউ তার ইচ্ছা-অনিচ্ছার মূল্যায়ন করে না। সংসার থেকে সে মুক্তি পেতে চাইলেও সম্পর্কের শিকড় ছিন্ন করে বের হতে পারে না। উদ্দীপকেও এ বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। সাজেদা স্বামীর সংসারে এসে সংসারের প্রতিটি কাজকে নিজের দায়িত্ব মনে করে কাঁধে তুলে নিয়েছে এবং গভীরভাবে আবদ্ধ হয়ে পড়ে সংসারে। অথচ অন্যদের কাছে তার কাজের তেমন কোনো গুরুত্বই নেই। সে সংসার থেকে বের হতেও পারে না। সংসারের কঠিন মায়াজালে সে আবদ্ধ।
উদ্দীপক ও ‘নিমগাছ’ গল্প উভয় জায়গায় সমাজ ও পরিবারে নারীর প্রকৃত অবস্থানের দিকটি ফুটে উঠেছে। সংসারে তারা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় হলেও তারাই সেখানে নানাভাবে অবহেলিত। এ অবহেলার কারণে অনেক সময় সংসার ত্যাগ করতে চাইলেও তারা তা পারে না। কারণ তারা সংসারের জালে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে যায়। তাই আমরা বলতে পারি যে, ‘উদ্দীপকটি ‘নিমগাছ’ গল্পের সমগ্র ভাব ধারণ করেছে।
০৭. “বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি করা যায়। তাই, বারবার সেদিকে তাকানো প্রয়োজন। মাটির রস টেনে নিয়ে নিজেকে মোটাসোটা করে তোলাতেই বৃক্ষের সমাপ্তি নয়। তাকে ফুল ফোটাতে হয়, ফল ধরাতে হয়। নইলে তার জীবন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। তাই বৃক্ষকে সার্থকতার প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তা, সজীবতা ও সার্থকতার এমন জীবন্ত দৃষ্টান্ত আর নেই।”
(ক) বনফুলের প্রকৃত নাম কী?
(খ) নতুন লোকটি নিমগাছের দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে চেয়ে রইল কেন?
(গ) উদ্দীপকে ‘নিমগাছ’ গল্পের যে বিশেষ দিকের অবতারণা ঘটেছে তা ব্যাখ্যা কর।
(ঘ) “উদ্দীপকটি ‘নিমগাছ’ গল্পের মূলভাবকে ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে”- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর।
উত্তর
(ক) বনফুলের প্রকৃত নাম বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়।
(খ) নতুন লোকটা সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে মুগ্ধ দৃষ্টিতে নিমগাছের দিকে চেয়ে রইল।
‘নিমগাছ’ গল্পে নতুন লোকটি একজন কবি। কবির কাছে প্রয়োজনের চেয়ে সৌন্দর্যই মুখ্য। অন্য সবাই নিমগাছকে প্রয়োজনের দিক থেকে বিচার করলেও কবি নিমগাছকে অবলোকন করেছেন শৈল্পিক দৃষ্টি দিয়ে। ফলে নিমগাছের সবুজ পাতা আর থোকা থোকা সাদা ফুল তাকে মুগ্ধ করেছে। সেই মুগ্ধতা এতটাই গভীর যে, ফুলগুলোকে তার কাছে একঝাঁক নক্ষত্রের মতো মনে হয়েছে। আর এ কারণেই নতুন লোকটা তথা কবি মুগ্ধ দৃষ্টিতে নিমগাছের দিকে চেয়ে রইল।
(গ) উদ্দীপকের ‘নিমগাছ’ গল্পের যে বিশেষ দিকের অবতারণা ঘটেছে তা হলো প্রতীকী ব্যঞ্জনার মধ্য দিয়ে বৃক্ষের সঙ্গে মানবজীবনের তুলনা।
বৃক্ষ নানাভাবে আমাদের উপকারে আসে। বৃক্ষ আমাদেরকে শুধু ফুল-ফলই দান করে না, সেই সঙ্গে আমাদের জীবন কেমন হওয়া উচিত সেই শিক্ষাও দেয়। তাই আমাদের জীবন বৃক্ষের আদর্শে গড়ে তোলা উচিত।
‘নিমগাছ’ গল্পের লেখক নিমগাছের প্রতীকে মূলত আমাদের সমাজের গৃহবধূদের অবস্থা তুলে ধরেছেন। তারা সংসারের জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করে। অথচ গৃহকর্ম-নিপুণা এই লক্ষ্মীবউরা সব সময় অবহেলিত থাকে। তা সত্ত্বেও তারা সংসারের মায়াজালে আবদ্ধ থেকে নিজ সুখ-শান্তি বিসর্জন দিয়ে পরিবারের কথা চিন্তা করার মধ্যেই জীবনের সার্থকতা খুঁজে পায়। উদ্দীপকেও আমাদের বৃক্ষের দিকে তাকিয়ে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি করতে বলা হয়েছে। কারণ বৃক্ষ শুধু মাটি থেকে রস নিয়ে নিজের বৃদ্ধিতেই থেমে থাকে না। তাকে ফুল ফোটাতে ও ফল ধরাতে কঠিন পরিশ্রম করতে হয়। তাই সার্থকতার প্রতীক হিসেবে বৃক্ষ আদর্শ হয়ে ওঠে। মূলত উভয় জায়গায় বৃক্ষের প্রতীকে মানবজীবনের আত্মত্যাগের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। তাই আমরা বলতে পারি যে, উদ্দীপকে ‘নিমগাছ’ গল্পের যে বিশেষ দিকের অবতারণা করা হয়েছে তা হলো প্রতীকী ব্যঞ্জনার মধ্য দিয়ে বৃক্ষের সঙ্গে মানবজীবনের তুলনা।
(ঘ) “উদ্দীপকটি ‘নিমগাছ’ গল্পের মূলভাবকে ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে”- মন্তব্যটি যথার্থ।
এ পৃথিবীতে মানুষের জন্য বৃক্ষের অবদান অপরিসীম। বৃক্ষের মতো জগৎ-সংসারেও অনেক মানুষ আছেন যারা অন্যের কল্যাণে সর্বদা ব্যস্ত থাকেন। বৃক্ষের মতো মানুষের জন্য কল্যাণকর কর্মকাণ্ডের কারণেই তারা অন্যের কাছে আদর্শ হয়ে ওঠেন। তাই মানুষের উচিত বৃক্ষের আদর্শে জীবন অতিবাহিত করা।
উদ্দীপকে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি করতে বৃক্ষের দিকে তাকাতে বলা হয়েছে। কারণ বৃক্ষ শুধু নিজের বৃদ্ধি নিয়ে ব্যস্ত থাকে না। তাকে ফুল ফুটিয়ে ও ফল ধরিয়ে জীবন সার্থক করতে হয়। ‘নিমগাছ’ গল্পে প্রতীকী অর্থে একজন নারীর জীবন তুলে ধরা হয়েছে। এখানে সংসারের ধরা-বাঁধা নিয়মে একজন নারীর জীবন এমনভাবে বন্দি থাকে যে, সে ইচ্ছে করলেও মনের মতো করে জীবনকে গুছিয়ে নিতে পারে না। তাকে সংসারের নিয়মের মাঝে আটকে থাকতে হয়। নিজেকে সম্পূর্ণ বিলিয়ে দিয়েও একজন নারী জীবনকে পরিপূর্ণভাবে উপলব্ধি করতে পারে না। ‘নিমগাছ’ গল্পে এক গৃহবধূর সংসারের অবদানের দিকটি প্রকাশিত হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে তার অবহেলিত হওয়ার দিকটি। একজন কবি নিমগাছের এই সাধারণ উপকারী দিকের বাইরে গিয়ে তার সৌন্দর্য আবিষ্কার করেছেন, মুগ্ধ দৃষ্টিতে চেয়ে রয়েছেন। গৃহবধূ তার সঙ্গে চলে যেতে ইচ্ছে করলেও সংসারের মায়াজাল থেকে সে বের হতে পারে না। অন্যদিকে উদ্দীপকে কেবল বৃক্ষকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। কারণ বৃক্ষ কঠোর পরিশ্রমী ও আত্মত্যাগের প্রতিচ্ছবি। কিন্তু ‘নিমগাছ’ গল্পের আত্মত্যাগের বিষয়টি ছাড়া উদ্দীপকে অন্যান্য বিষয়ের প্রকাশ ঘটেনি। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
০৮. সজনে পুষ্টিসমৃদ্ধ উদ্ভিদ যা বহু শতাব্দী ধরে ঐতিহ্যগত ওষুধে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রায় তিনশরও বেশি রোগের ঔষধ হিসেবে সজনে পাতা ব্যবহৃত হয়। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে, কিডনি ও যকৃতের সুস্থতায়, হজম প্রক্রিয়ার উন্নতিতে, রক্তশূন্যতার চিকিৎসাসহ ইত্যাকার রোগে সজনে ডাঁটা অত্যন্ত কার্যকরী। বাড়ির পাশে যত্ন ছাড়াই এ গাছ বড় হয়। অনেকে কারখানার পাশে রোপণ করে। কারখানার পাশে বেড়ে ওঠা সজনে গাছ অতি মাত্রায় কার্বন শোষণের ফলে বিষাক্ত হয়ে যায়। কারখানার শ্রমজীবী নারীদেরও একই দুর্দশা। অথচ এ দিকে কারো দৃষ্টি নেই।
(ক) বনফুলের প্রকৃত নাম কী?
(খ) শান দিয়ে বাঁধানোকে আবর্জনার সাথে তুলনা করার কারণ কী?
(গ) উদ্দীপকে ‘নিমগাছ’ গল্পের কোন দিকটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।
(ঘ) উদ্দীপকে ‘নিমগাছ’ গল্পের আংশিক ভাব ফুটে উঠেছে, লাইনটি ‘নিমগাছ’ গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
(ক) বনফুলের প্রকৃত নাম বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়।
(খ) শান দিয়ে গোড়া বেঁধে দিলে বৃক্ষের স্বাভাবিক বিকাশ বিঘ্ন হয় বলে একে আবর্জনার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
শান দিয়ে বাঁধানো বলতে এখানে ইট ও সিমেন্ট দিয়ে বাঁধানো বোঝানো হয়েছে। আপাত দৃষ্টিতে শান দিয়ে বাঁধানোর বিষয়টিকে দেখতে ভালো মনে হলেও তা বৃক্ষের তথা নিমগাছের বিকাশের পক্ষে প্রতিবন্ধকতাস্বরূপ। এ কারণে আলোচ্য গল্পে শান দিয়ে বাঁধানোর ‘বিষয়টিকে আবর্জনার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
(গ) উদ্দীপকে ‘নিমগাছ’ গল্পের নিমগাছের প্রতীকাশ্রয়ে নারীদের দুঃখ-দুর্দশার দিকটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
আমাদের পরিবার ও সমাজে নারীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তা সত্ত্বেও নারীদের ভূমিকাকে সেভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। ফলে অনাদর ও অবহেলা সয়েই তাদের জীবন কাটাতে হয়।
উদ্দীপকের উপকারী সজনে গাছটি যেমন বহুবিধ ঔষধি গুণ থাকার পরও যত্ন পায় না, তেমনই কারখানার শ্রমজীবী নারীরা অমানুষিক পরিশ্রম করেও যথাযথ মূল্যায়ন পায় না। ‘নিমগাছ’ গল্পের লক্ষ্মী বউটিরও একই অবস্থা। সংসারে সকলের প্রয়োজন মেটালেও তার প্রতি কারও খেয়াল নেই। ফলে অশেষ মনোযাতনা নিয়ে তাকে সংসার করতে হয়। অর্থাৎ উদ্দীপকের শ্রমজীবী নারীরা এবং গল্পের বধূটি নিজ নিজ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তাদের ভালো-মন্দ দেখার কেউ নেই। সেই বিবেচনায় উদ্দীপকে আলোচ্য গল্পের নারীদের দুঃখ-দুর্দশার দিকটিই ফুটে উঠেছে।
(ঘ) উদ্দীপকে ‘নিমগাছ’ গল্পের আংশিক ভাব ফুটে উঠেছে।-উদ্দীপক ও ‘নিমগাছ’ গল্পের আলোকে মন্তব্যটি যথার্থ।
যুগ যুগ ধরে আমাদের সমাজে নারীরা অবহেলিত হয়ে আসছে। আজকের দিনে মানবসভ্যতার যে অভূতপূর্ব অগ্রগতি চোখে পড়ে তাতে নারীর ভূমিকা কম নয়। তবুও নারীরা তাদের অবদানের উপযুক্ত স্বীকৃতি পায়নি।
উদ্দীপকে একটি অবহেলিত সজনে গাছের সঙ্গে তুলনা করে কারখানার শ্রমজীবী নারীদের দুর্দশার কথা উপস্থাপন করা হয়েছে। সেখানে দেখানো হয়েছে বহুবিধ ঔষধি গুণ থাকা সত্ত্বেও সজনে গাছটি যেমন প্রয়োজনীয় পরিচর্যা পায়নি তেমনই কারখানার শ্রমজীবী নারীরা সারা দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করলেও তাদের দুর্দশা ঘোচেনি। আলোচ্য ‘নিমগাছ’ গল্পেও নারীদের অন্তর্যাতনার এ দিকটি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে। ‘নিমগাছ’ গল্পে লেখক দেখিয়েছেন, ঘরের লক্ষ্মী বউটি পরিবারের সকলের খেয়াল রাখলেও তার সুখ-দুঃখের কথা ভাবার কেউ নেই। ফলে অনিঃশেষ মনোযাতনা নিয়ে তাকে সংসার করে যেতে হয়। সমাজ-সংসারে নারীদের এই অবহেলিত হওয়ার দিকটি আলোচ্য উদ্দীপকেও একইভাবে পরিলক্ষিত হয়। তবে গল্পটিতে নারীর সংসারের বেড়াজাল এবং তা ছিন্ন করে চলে যাওয়ার যে ইচ্ছের কথা ফুটে উঠেছে তার উল্লেখ উদ্দীপকে নেই। সে বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
০৯. স্বর্ণ করে নিজ রূপে অপরে শোভিত।
বংশী করে নিজ সুরে অপরে মোহিত।
(ক) “নিমের হাওয়া ভালো, থাক, কেটো না।” উক্তিটি কার?
(খ) নতুন লোকটি নিমগাছের দ্বিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে চেয়ে রইল কেন?- ব্যাখ্যা কর।
(গ) উদ্দীপকের সঙ্গে ‘নিমগাছ’ গল্পের সাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর।
(ঘ) “সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপক ও ‘নিমগাছ’ গল্পের মূল সুর অভিন্ন নয়।”- মূল্যায়ন কর।
উত্তর
(ক) “নিমের হাওয়া ভালো, থাক, কেটো না।” উক্তিটি বিজ্ঞদের।
(খ) নতুন লোকটা সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে মুগ্ধ দৃষ্টিতে নিমগাছের দিকে চেয়ে রইল।
‘নিমগাছ’ গল্পে নতুন লোকটি একজন কবি। কবির কাছে বৈষয়িক প্রয়োজনের চেয়ে সৌন্দর্যই মুখ্য। অন্য সবাই নিমগাছকে প্রয়োজনের দিক থেকে বিচার করলেও কবি নিমগাছকে অবলোকন করেছেন শৈল্পিক দৃষ্টি দিয়ে। ফলে নিমগাছের সবুজ পাতা আর থোকা থোকা সাদা ফুল তাকে মুগ্ধ করেছে। সেই মুগ্ধতা এতটাই গভীর যে, ফুলগুলোকে তার কাছে একঝাঁক নক্ষত্রের মতো মনে হয়েছে। আর এই কারণেই নতুন লোকটা তথা কবি মুগ্ধ দৃষ্টিতে নিমগাছের দিকে চেয়ে রইল।
(গ) উদ্দীপকের সঙ্গে ‘নিমগাছ’ গল্পের ‘নিঃস্বার্থ পরোপকারী ও প্রয়োজনীয়তার দিক থেকে সাদৃশ্য রয়েছে।
জগতে এমন কিছু জিনিস থাকে যেগুলো নিজেদের আলোয় অন্যদের আলোকিত করে। নিজেদের স্বার্থ বাদ দিয়ে এরা অন্যের কল্যাণে সর্বদা নিয়োজিত থাকে। যেমন- বৃক্ষ বৃক্ষের মতো মানুষের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছেন যারা অন্যের জন্য নিজেদের জীবন বিলিয়ে দেন।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে স্বর্ণ তার নিজ রূপে অন্যকে মোহিত করে। আবার বংশী বা বাঁশি তার নিজ সুরের জাদুতে অন্যকে মোহিত করে। এখানে স্বর্ণ এবং বংশীর মাধ্যমে মূলত নিঃস্বার্থভাবে পরোপকারের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়, যা ‘নিমগাছ’ গল্পেও আমরা দেখতে পাই। ‘নিমগাছ’ গল্পে নিমগাছের সমস্ত কিছুর মাধ্যমে অন্যের উপকার করার বিষয়টি লেখক তুলে ধরেছেন। এই নিমগাছের রূপকে মূলত তিনি গৃহকর্ম-নিপুণা এক গৃহবধূর জীবনচিত্র অঙ্কন করেছেন। এভাবে উদ্দীপকের সঙ্গে ‘নিমগাছ’ গল্পের পরোপকারী মনোভাব সাদৃশ্যপূর্ণ।
(ঘ) “সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপক ও ‘নিমগাছ’ গল্পের মূল সুর অভিন্ন নয়।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
সমাজে নানা ধরনের মানুষ বাস করে। তাদের মধ্যে এমন মানুষও আছেন যারা নিজের স্বার্থের কথা চিন্তা না করে পরের হিতের জন্য সর্বদা নিয়োজিত থাকেন। আবার অন্যের জন্য অনেক কিছু করে তারা অবহেলিত থাকেন। সংসারে গৃহবধূরা এমনই উপেক্ষিত মানুষ।
উদ্দীপকে স্বর্ণ এবং বংশী বা বাঁশির অন্যকে মোহিত ও শোভিত করার মাধ্যমে মূলত তাদের পরোপকারের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। তাদের এই পরোপকারিতার দিকটি ‘নিমগাছ’ গল্পের নিমগাছ তথা গৃহকর্ম নিপুণা লক্ষীবউটার পরোপকারিতার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। তবে পরোপকারের এ বিষয়টি ‘নিমগাছ’ গল্পের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলেও এটিই একমাত্র দিক নয়।
‘নিমগাছ’ গল্পে লেখক নিমগাছের রূপকে গৃহকর্ম-নিপুণা এক গৃহবধূর জীবনের নানা সংকট ও অপরিসীম আত্মত্যাগের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাকে ছাড়া সংসারের স্বাভাবিক কার্যক্রম অচল হলেও সে এখানে অবহেলিত-বঞ্চিত। ফলে সে তার সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলে। এখানে লেখক নানা দৃষ্টিকোণ থেকে নিমগাছের মাধ্যমে গৃহবধূর জীবনের অচলাবস্থাকে ফুটিয়ে তুলেছেন যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। এদিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।