আখলাক বা চরিত্র ও নৈতিক মূল্যবোধ
ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা
০১। নিচের প্রশ্নের অল্প কথায় উত্তর উত্তরপত্রে লেখ :
প্রশ্ন: চারটি ভালো কাজের একটি তালিকা তৈরি করো।
উত্তর: চারটি ভালো কাজের একটি তালিকা-
১ সবসময় সত্য কথা বলা।
২ অসুস্থ মানুষের সেবা করা।প্র
৩ অন্যের বিপদে সাহায্য করা।
৪ পিতা-মাতার খেদমত করা।
প্রশ্ন: সর্বোত্তম মানুষ হওয়ার চারটি উপায় লেখো।
উত্তর: সর্বোত্তম মানুষ হওয়ার চারটি উপায়-
১. আল্লাহর ইবাদত করা;
২. পিতা-মাতার কথা শোনা;
৩. সৃষ্টির সেবা করা;
৪. জাতীয় সম্পদ রক্ষা করা।
প্রশ্ন: তোমার জন্মদিনে তুমি রাস্তার পাশে থাকা কিছু ক্ষুধার্ত শিশুদের খাবার দিলে। তোমার এ কাজে কী প্রকাশ পেল? আরও কীভাবে এ কাজের প্রকাশ ঘটানো যায়? তিনটি বাক্যে লেখো।
উত্তর: আমার এ কাজটিতে সৃষ্টি তথা মানুষের সেবা প্রকাশ পেল। আরও যেভাবে আমরা সৃষ্টির সেবা করতে পারি-
১. আশ্রয়হীনদের আশ্রয় দেওয়া।
২. কেউ বিপদে পড়লে সাহায্য করা।
৩. কোনো প্রাণীকে কষ্ট না দেওয়া।
প্রশ্ন: তুমি বাসায় কর এমন চারটি কাজ লেখো।
উত্তর: আমি বাসায় করি এমন চারটি কাজ-
১. নিজের পড়ার টেবিল গুছিয়ে রাখি।
২. জামা-কাপড়, ঘর, বিছানা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখি।
৩. বাসায় মেহমান আসলে তাদের যত্ন নিই।
৪. রান্নার কাজে মাকে এবং বাবার কাজে সাহায্য করি।
প্রশ্ন: তুমি কীভাবে দেশের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করবে? চারটি বাক্যে লেখো।
উত্তর: আমি যেভাবে দেশের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করব-
১. দেশের সংকটে পাশে থাকব।
২. দেশের মানুষের সেবা করব।
৩. দেশের সম্পদ (পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস প্রভৃতি) অপচয় না করে জাতীয় সম্পদ রক্ষা করব।
৪. পরিবেশ সুন্দর রাখতে বেশি বেশি গাছ লাগাব।
প্রশ্ন: ক্ষমা কে পছন্দ করেন? ক্ষমাশীল ব্যক্তির তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: মহান আল্লাহ ক্ষমা পছন্দ করেন। ক্ষমাশীল ব্যক্তির তিনটি বৈশিষ্ট্য-
১. মন উদার থাকে।
২. মানুষের জন্য দয়ামায়া বেশি থাকে।
৩. রাগ দমন করতে পারে।
প্রশ্ন: চারটি অসৎ কাজের উদাহরণ দাও।
উত্তর: চারটি অসৎ কাজ হলো-
১. কোনো কিছু চুরি করা।
২. ঝগড়া ও মারপিট করা।
৩. শ্রেণিকক্ষে গণ্ডগোল বা হৈচৈ করা।
৪. বেঞ্চ কাটা বা দেয়ালে কালির দাগ দেওয়া।
প্রশ্ন: সততা কী? এর অভাবে কী হয়? দুটি বাক্যে লেখো।
উত্তর: নিজের স্বার্থ বড় করে না দেখা এবং অপরের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হোক তা না চাওয়ার নামই সততা। সততার অভাবে-
১. সমাজে সুখ-শান্তি থাকে না।
২. সমাজ ধ্বংসের পথে চলে যায়।
প্রশ্ন: তুমি কীভাবে সততার পরিচয় দিতে পার? চারটি বাক্যে লেখো।
উত্তর: সততার পরিচয় দিতে আমি-
১. ন্যায়নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকব।
২. নিজের স্বার্থকে বড় করে দেখব না।
৩. বিবেক ও মানবতাবোধ নিয়ে প্রতিটি কাজ করব।
৪. সবসময় সত্য কথা বলব।
প্রশ্ন: নিজের কাজ নিজে করবে কেন? চারটি বাক্যে লেখো।
উত্তর: নিজের কাজ নিজে করব, কারণ-
১. এটি ইসলামের নির্দেশ ও শিক্ষা।
২. কোনো কাজই তুচ্ছ বা অমর্যাদাকর নয়।
৩. পরিশ্রম ও চেষ্টা সাফল্যের চাবিকাঠি।
৪. মহানবি (স) সবসময় নিজের কাজ নিজে করেছেন।
প্রশ্ন: মহানবি (স) ঘরে কী কী কাজ করতেন? চারটি বাক্যে লেখো।
উত্তর: মহানবি (স) ঘরে নানা ধরনের কাজ করতেন। যেমন-
১. ছেঁড়া জামা-কাপড় নিজেই সেলাই করতেন।
২. ময়লা জামা-কাপড় ধুয়ে পরিষ্কার করতেন।
৩. ঘর ঝাড় দিয়ে পরিষ্কার করতেন।
৪. পানাহারের প্লেট-গ্লাস নিজেই ধুতেন।
প্রশ্ন: মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় তোমার কী করা উচিত? চারটি বাক্যে লেখো।
উত্তর: মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় আমার উচিত-
১. সব ভেদাভেদ, কলহ, বিবাদ ভুলে যাওয়া।,
২. সবার সাথে মিলেমিশে বসবাস করা।
৩. কারও প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ না রেখে ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া।
৪. কারও ক্ষতি না করা, অন্যের উপকারে নিয়োজিত থাকা।
প্রশ্ন: আমরা কীভাবে পরিবেশের ক্ষতি করে থাকি? চারটি বাক্যে লেখো।
উত্তর: আমরা বিভিন্নভাবে পরিবেশের ক্ষতি করি। যেমন-
১. যেখানে-সেখানে ময়লা, আবর্জনা, কফ, থুথু ফেলি।
২. অযথা গাছ কাটি। গাছের পাতা, ফুল-ফল, পাতা ছিড়ে নষ্ট করি।
৩. প্লাস্টিক, পলিথিন, রাসায়নিক বর্জ্য পানিতে ফেলে পরিবেশ নষ্ট করি।
৪. আশপাশ অপরিষ্কার রেখে পরিবেশের ক্ষতি করি।
প্রশ্ন: পরিবেশ সংরক্ষণ কাদের দায়িত্ব? এটি সংরক্ষণে তোমার তিনটি করণীয় লেখো।
উত্তর: পরিবেশ সংরক্ষণ মানুষের দায়িত্ব। এটি সংরক্ষণে আমার তিনটি করণীয়-
১. বেশি করে গাছ লাগানো।
২. অকারণে পশুপাখি, জীবজন্তু হত্যা না করা।
৩. যেখানে সেখানে ময়লা-আবর্জনা, মলমূত্র না ফেলা।
৪. পুকুরে ময়লা-আবর্জনা, প্লাস্টিক, পলিথিন, রাসায়নিক বর্জ্য না ফেলা বা গরু-ছাগল গোসল না করানো।
প্রশ্ন: প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর কাদের হাত থাকে না? এর ফলে কী ক্ষতি হয়? যেকোনো তিনটি লেখো।
উত্তর: প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর মানুষের কোনো হাত থাকে না। এর ফলে-
১. মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
২. কৃষি জমি এবং অন্যান্য সম্পদ নষ্ট হয়।
৩. জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয়।
প্রশ্ন: চরিত্র সুন্দর করার চারটি উপায় লেখ।
উত্তর: চরিত্র সুন্দর করার চারটি উপায় নিচে উল্লেখ করা হলো-
১. আল্লাহর ইবাদত করা, পিতা-মাতার কথা শোনা।
২. শিক্ষককে সম্মান করা, সত্য কথা বলা।
৩. সৃষ্টির সেবা করা ও জাতীয় সম্পদ রক্ষা করা।
৪. মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা ও বিশ্বভ্রাতৃত্ব গড়ে তোলা।।
প্রশ্ন: সকলের ঘৃণা হতে রক্ষা পেতে তুমি কী কর? চারটি বাক্যে লেখ।
উত্তর: সকলের ঘৃণা হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য আমি যা করি-
১. সবর্দা সত্য কথা বলি।
২. সৃষ্টির সেবা করি।
৩. মাতা-পিতার অবাধ্য হই না।
৪. শিক্ষককে ও বড়দের সম্মান করি।
প্রশ্ন: সৃষ্টির সেবার জন্য যে কাজগুলো কর তা লেখ।
উত্তর: সৃষ্টির সেবার জন্য যে কাজগুলো করি তা হলো-
১. ক্ষুধার্তকে খাদ্য দিই;
২. অসুস্থ ব্যক্তির সেবাযত্ন করি;
৩. বস্ত্রহীনকে বস্ত্র দান করি;
৪. দরিদ্র ও ভিক্ষুককে সাহায্য করি।
প্রশ্ন: আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার চারটি উপায় লেখ।
উত্তর: আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার চারটি উপায় হলো-
১. নিজের অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হওয়া।
২. নিজের ভুল স্বীকার করা এবং পাপ কাজ থেকে ফিরে আসা।
৩. আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়া।
৪. বেশি বেশি ইবাদত করা।
প্রশ্ন: তুমি কীভাবে পিতা-মাতার খেদমত কর চার বাক্যে লেখ।
উত্তর: পিতা-মাতার খেদমত যেভাবে করি-
১. পিতা-মাতার আদেশ নিষেধ মেনে চলি।
২. তাদের সেবাযত্ন করি।
৩. তারা দেখলে বা শুনলে খুশি হন এমন কাজ করি।
৪. তাদের সাথে কটু কথা বলি না।
প্রশ্ন: ইসলামের দৃষ্টিতে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় চারটি করণীয় দিক। লেখ।
উত্তর: ইসলামের দৃষ্টিতে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় চারটি করণীয় দিক হলো-
১. মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ করা যাবে না।
২. সকলে মিলেমিশে বসবাস করতে হবে।
৩. কারও ওপর অত্যাচার করা যাবে না।
৪. সবার সাথে মধুর আচরণ করতে হবে।
প্রশ্ন: বন্যার সময় তোমার করণীয় সম্পর্কে চারটি কাজ লেখ।
উত্তর: বন্যার সময় আমার করণীয় হলো-
১. যথাসম্ভব উচ্চ জায়গায় বসতভিটা, গোয়ালঘর ও হাঁস-মুরগির ঘর তৈরি করব।
২. ঘরের ভিতরে উঁচু মাচা তৈরি করে তার ওপর খাদ্যশস্য ও বীজ ইত্যাদি সংরক্ষণ করব।
৩. পুকুরের পাড় উঁচু করব। টিউবওয়েল ও ল্যাট্রিন যথাসম্ভব উঁচু স্থানে বসাব।
৪. শুকনো খাবার যেমন- চিড়া, মুড়ি, গুড় এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ঘরে মজুদ রাখব।
প্রশ্ন: মাহিনের আখলাক ভালো। তার জীবন কেমন হবে? মাহিন করে এমন সাতটি ভালো কাজের নাম লেখো।
উত্তর: মাহিনের জীবন সুন্দর ও সুখের হবে। মাহিন করে এমন সাতটি ভালো কাজ হলো-
১. আল্লাহর ইবাদত করে।
২. সবসময় সত্য কথা বলে।
৩. পিতা-মাতা ও শিক্ষকের কথা মেনে চলে।
৪. গুরুজনদের সম্মান করে।
৫. সৃষ্টির সেবা করে।
৬. জাতীয় সম্পদ রক্ষা করে।
৭. পরিবেশের যত্ন নেয়।
প্রশ্ন: সদাচার কী? তুমি কেন সদাচরণ করবে? তুমি করতে চাও এ রকম ছয়টি সদাচার লেখো।
উত্তর: সুন্দর ও ভালো আচরণকে সদাচার বলে। সদাচারীকে আল্লাহ ও রাসুল (স) ভালোবাসেন। তাই আমি সদাচরণ করব। আমি যে সদাচারগুলো করব তার ছয়টি হলো-
১. আল্লাহর ইবাদত করব।
২. পিতা-মাতা, শিক্ষককে সম্মান করব।
৩. সৃষ্টির সেবা করব।
৪. দেশ ও দেশের মানুষের প্রয়োজনে পাশে থাকব।
৫. দেশের পরিবেশ সংরক্ষণ করব।
৬. মানবাধিকার ও বিশ্বভ্রাতৃত্ব গড়ে তুলব।
প্রশ্ন: সৃষ্টির সেবা কাকে বলে? তুমি কীভাবে সৃষ্টির সেবা করবে? ছয়টি বাক্যে লেখো।
উত্তর: আল্লাহর সব সৃষ্টির প্রতি দয়া ও সহানুভূতি প্রদর্শন করাকে সৃষ্টির সেবা বলে। আমি সৃষ্টির সেবা করব-
১. অসুস্থ ব্যক্তির সেবা-যত্ন করে।
২. ক্ষুধার্তকে খাদ্য দিয়ে।
৩. আহত পশু-পাখির যত্ন নিয়ে।
৪. বিপদগ্রস্তদের সাহায্য-সহযোগিতা করে।
৫. গাছপালার যত্ন নিয়ে।
৬. নিরাশ্রয়কে আশ্রয় দিয়ে।
প্রশ্ন: আব্দুল্লাহ দেশের সংকটে সবসময় পাশে থাকে। সে কোন ধরনের দায়িত্ব পালন করে? এ ধরনের দায়িত্ব পালনে দেশের প্রতি আমাদের সাতটি করণীয় লেখো।
উত্তর: আব্দুল্লাহ নৈতিক দায়িত্ব পালন করে। এ ধরনের দায়িত্ব পালনে দেশের প্রতি আমাদের সাতটি করণীয়-
১. দেশের সব মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করা।
২. দেশের সম্পদকে ভালোবাসা ও সংরক্ষণ করা।
৩. বৃক্ষরোপণ করা, গাছপালা নষ্ট না করা।
৪. পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস অপচয় না করা
৫. কেউ বিপদে পড়লে সাহায্য করা।
৭. দেশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা।
প্রশ্ন: তোমার বাবা মানুষকে ক্ষমা করে দেন। এটি কার বিশেষ গুণ? আমরা কীভাবে তাঁর কাছে ক্ষমা চাইব? আমাদের কেন মানুষকে ক্ষমা করা উচিত? ছয়টি বাক্যে লেখো।
উত্তর: ক্ষমা করা মহান আল্লাহর বিশেষ গুণ। আমরা ভুল করে অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা চাইব। আমাদের ক্ষমা করা উচিত কারণ-
১. মহান আল্লাহ মানুষকে ক্ষমা করে দেন।
২. ক্ষমা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
৩. ক্ষমাশীলদের আল্লাহ ভালোবাসেন।
৪. অন্যদের ক্ষমা করা উদারতা ও মহত্তের লক্ষণ।
৫. ক্ষমাশীল ব্যক্তিদের সবাই ভালোবাসেন।
৬. ক্ষমাশীলদের জন্য আল্লাহর কাছে পুরস্কার রয়েছে।
প্রশ্ন: সততা কী? যার মধ্যে সততা থাকে তাকে কী বলে? সততার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ছয়টি বাক্য লেখো।
উত্তর: নিজের স্বার্থ বড় করে না দেখা এবং অপরের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হোক তা না চাওয়ার নামই সততা। যার মধ্যে সততা থাকে তাকে সৎ ব্যক্তি বলে। সততার প্রয়োজনীয়তা-
১. সততা মানুষকে ভালো কাজের দিকে পরিচালিত করে, আর ভালো কাজ মানুষকে জান্নাতে পৌছে দেয়।
২. ইসলাম কথা-বার্তা, কাজ-কর্ম ও আচার-আচরণে আমাদের সততা রক্ষা করার জন্য জোর তাগিদ দিয়েছে।
৩. সততার অভাবে সমাজে সুখ-শান্তি থাকে না।
৪. সততার মাধ্যমে মানুষের বিশ্বাস ও ভালোবাসা অর্জন করা যায়।
৫. যে সমাজে সততার অভাব ঘটে সে সমাজ আস্তে আস্তে ধ্বংসের পথে চলে যায়।
৬. সততা মানুষকে মুক্তি দেয়।
প্রশ্ন: তুমি ভালো কাজ কর। কী ধরনের কাজ এর অন্তর্ভুক্ত? এ কাজে আমরা কীভাবে সাহায্য করব? সাতটি বাক্যে লেখো।
উত্তর: সকল প্রকার সদাচার ও সৎ কাজ ভালো কাজের অন্তর্ভুক্ত। আমরা বিভিন্নভাবে ভালো কাজে সাহায্য করব। যেমন-
১. যাতায়াত ও চলাফেরার সুবিধার জন্য সকলে মিলে রাস্তাঘাট, পুল ও সাঁকো তৈরি করব।
২. ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করব।
৩. সবাই মিলে গ্রন্থাগার গড়ে তুলব।
৪. রাস্তার পাশে বা ফাঁকা স্থানে গাছ লাগাব, ফুল ও সবজির বাগান করব এবং যত্ন নেব।
৫. সবাই মিলে প্রত্যেক পরিবারের জন্য দু-একটি স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন তৈরি করব।
৬. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে বড়দের সাথে অংশ নেব।
৭. বড়দের বিভিন্ন ভালো ও উন্নয়নমূলক কাজে সাহায্য করব।
প্রশ্ন: পৃথিবীতে আমাদের সবচেয়ে আপনজন কারা? তাদের সাথে কেন আমাদের উত্তম আচরণ করা দরকার? বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: পৃথিবীতে আমাদের সবচেয়ে আপনজন পিতা-মাতা। তাদের
সাথে উত্তম আচরণ করা দরকার। কারণ-
১. পিতা-মাতার জন্যই আমরা দুনিয়াতে এসেছি।
২. তাঁদের স্নেহ ও আদরে আমরা লালিত-পালিত হয়ে বড় হয়েছি।
৩. তাঁরা আমাদের অসুখ-বিসুখ হলে অনেক সেবা-যত্ন করেন।
৪. আমাদের আনন্দে তাঁরা আনন্দ পান, আমাদের দুঃখ-কষ্টে
তাঁরাও দুঃখ-কষ্ট পান।
৫. তাঁরা ভালোবাসা ও মমতা দিয়ে আমাদের আগলে রেখেছেন।
৬. আমাদের বিপদ-আপদে তাঁরা সবার আগে এগিয়ে আসেন।
৭. তাঁরা সবসময় আমাদের কল্যাণ ও মঙ্গল কামনা করেন।
প্রশ্ন: সাফল্যের চাবিকাঠি কী? শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কাজের লোকের প্রতি তুমি কর এমন সাতটি কাজ লেখো।
উত্তর: চেষ্টা ও শ্রম সাফল্যের চাবিকাঠি। শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কাজের লোকের প্রতি আমি-
১. ভালো ব্যবহার করি।
২. বয়সে বড় হলে সালাম দিই।
৩. তাদের কাজে সাহায্য করি।
৪. বয়সে ছোট হলে আদর করি।
৫. তাদের প্রয়োজন পূরণ করার চেষ্টা করি।
৬. আমি যা খাই তাদেরও তাই খেতে দিই।
৭. তাদেরকে কখনও অবহেলা বা ঘৃণা করি না।
প্রশ্ন: পরিবেশ সংরক্ষণে তোমার দুটি দায়িত্ব লেখো। বন্যার সময় তোমার করণীয় সম্পর্কে ছয়টি বাক্য লেখো।
উত্তর: পরিবেশ সংরক্ষণে-
১. আমি বেশি করে গাছ লাগাই।
২. যেখানে সেখানে কফ, থুথু, ময়লা-আবর্জনা ফেলি না।
বন্যার সময় আমি-
১. পরিবারের সদস্য এবং পাড়া-প্রতিবেশীদের নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাব।
২. শুকনো খাবার যেমন চিড়া, মুড়ি, গুড় এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সাথে রাখব।
৩. যাতায়াতের জন্য সবাইকে সাথে নিয়ে ভেলা তৈরি করব।
৪. পশু-পাখিকে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখার চেষ্টা করব।
৫. সবাইকে মানসিক সমর্থন দিয়ে চিন্তামুক্ত রাখার চেষ্টা করব।
৬. বন্যাদুর্গতদের খাবার ও চিকিৎসা সেবা দিয়ে সাহায্য করব।
প্রশ্ন: প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমরা যেসব ক্ষতির সম্মুখীন হই তা আটটি বাক্যে লেখো।
উত্তর: প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হই।
যেমন-
১. গাছপালা, মৎস্যখামার ও শস্যক্ষেতের ক্ষতি হয়।
২. জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয়।
৩. কৃষি ফসল নষ্ট হয়।
৪. জমির উর্বরা শক্তি কমে যায় এবং উৎপাদন কম হয়।
৫. অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
৬. মানুষের ঘরবাড়ি ও সম্পদের ক্ষতি হয়।
৭. বিশুদ্ধ পানির অভাবে রোগ-ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ে।
৮. পরিবেশ দূষিত ও বিপর্যস্ত হয়।
প্রশ্ন: সিত্রাং, ইয়াস, আম্পান, সিডর, আইলার মতো ঘূর্ণিঝড়ে প্রতিবছর আমাদের অনেক ক্ষতি হয়। এগুলোকে কী বলা হয়? এর ফলে দেশের কী ক্ষতি হয়? এর থেকে বাঁচার জন্য আমরা কী করব? পাঁচটি বাক্যে লেখো।
উত্তর: সিত্রাং, ইয়াস, আম্পান, সিডর, আইলার মতো ঘূর্ণিঝড়কে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলা হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে অনেক লোকের প্রাণহানি ঘটে। গাছপালা, মৎস্য খামার, শস্যক্ষেতের ক্ষতি হয়। কৃষি জমি ও ফসলের ক্ষতি হয়। জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়ে।
এগুলো থেকে বাঁচার জন্য আমরা-
১. ঘরের ভেতরে উঁচু মাচা তৈরি করে তার ওপর খাদ্যশস্য ও বীজ ইত্যাদি সংরক্ষণ করব।
১২. পুকুরের পাড় উঁচু করব।
৩. টিউবওয়েল ও ল্যাট্রিন যথাসম্ভব উঁচু স্থানে বসাব।
৪. শুকনো খাবার যেমন- চিড়া, মুড়ি, গুড় এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ঘরে মজুদ রাখব।
৫. পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে সাঁতার কাটা শেখাব।
প্রশ্ন: চরিত্র সুন্দর ও আচরণ ভালো করতে হলে তোমার করণীয় কী? বর্ণনা কর।
উত্তর: চরিত্র সুন্দর আচরণ ভালো করতে হলে আমার করণীয় কাজগুলো হলো-
১. আল্লাহর ইবাদত করব, পিতা-মাতার কথা শুনব।
২. শিক্ষককে সম্মান করব, সত্য কথা বলব।
৩. সৃষ্টির সেবা করব, জাতীয় সম্পদ রক্ষা করব।
৪. মানবাধিকার ও বিশ্বভ্রাতৃত্ব গড়ে তুলব।
৫. আমি কতকগুলো মন্দ আচরণ থেকে দূরে থাকব। যেমন-মিথ্যা কথা বলব না, ঝগড়া-বিবাদ করব না।
৬. হিংসা করব না, চুরি-ডাকাতি করব না।
৭. ধূমপান করব না, দেশের ও জনগণের ক্ষতি করব না।
৮. আল্লাহর ইবাদত ভুলব না, কটু কথা বলব না।
প্রশ্ন: শ্রম অর্থ কী? শ্রমের মর্যাদা সম্পর্কে ইসলামের শিক্ষা আলোচনা কর।
উত্তর: শ্রম অর্থ মেহনত, পরিশ্রম, চেষ্টা, খাটুনি। চেষ্টা বা শ্রম সাফল্যের চাবিকাঠি। পৃথিবীতে কোনো কাজই তুচ্ছ নয়। কোনো কর্মী ও শ্রমিক নগণ্য নয়। প্রত্যেক কর্মী ও শ্রমিকের হাতই উত্তম। শ্রমের উপার্জনই উত্তম উপার্জন। শ্রমিকের কাজ শেষ হলে তার পারিশ্রমিক সাথে সাথেই দিয়ে দেওয়া উচিত। তাহলে শ্রমের ন্যায্য মর্যাদা দেওয়া হবে। এটিই ইসলামের শিক্ষা।
প্রশ্ন: মহানবি (স) অশ্রুভেজা চোখে বারবার মক্কার দিকে তাকাচ্ছিলেন কেন? এতে উদ্বুদ্ধ হয়ে তুমি কীভাবে দেশপ্রেম দেখাও? এ সম্পর্কে কয়েকটি বাক্য লেখ।
উত্তর: আমাদের মহানবি (স) তাঁর জন্মভূমি মক্কা নগরীকে খুব ভালোবাসতেন। এজন্য তিনি হিজরতের সময় অশ্রু ভেজা চোখে বারবার মক্কার দিকে তাকাচ্ছিলেন। মহানবি (স)-এর এ কাজে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমি যেভাবে দেশপ্রেম দেখাই সে সম্পর্কে কয়েকটি বাক্য হলো-
১. দেশের সকলের সাথে ভালো ব্যবহার করি।
২. কেউ বিপদে পড়লে সাহায্য করি।
৩. জাতীয় সম্পদ রক্ষা করি।
৪. বৃক্ষরোপণ করি, গাছ নষ্ট করি না
৫. পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস অপচয় করি না।
৬. দেশের সকল মানুষকে ভালোবাসি।
প্রশ্ন: ভুল হলে আমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইব কেন? ক্ষমার ছয়টি গুরুত্ব লেখ।
উত্তর: ক্ষমা আল্লাহ তায়ালার একটি বিশেষ গুণ। শাস্তি থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য আমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইব। ক্ষমার গুরুত্ব হলো-
১. ক্ষমাশীল ব্যক্তিকে সকলেই ভালোবাসে।
২. ক্ষমাশীল ব্যক্তিকে আল্লাহ ভালোবাসে।
৩. ক্ষমাশীল ব্যক্তির জন্য আল্লাহ পুরস্কার ঘোষণা করেছেন।
৪. ক্ষমা করা মানুষের নৈতিক দায়িত্ব।
৫. ক্ষমাশীল ব্যক্তিকে সকলেই ভালোবাসে।
৬. ক্ষমা করা মহানবি (স)-এর আদর্শ।
প্রশ্ন: সততা কী? সততার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ছয়টি বাক্য লেখ।
উত্তর: সততা মানে সাধুতা, মানবতা, সত্যবাদিতা। নিজের স্বার্থ বড় করে না দেখা এবং অপরের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হোক তা না চাওয়ার নামই সততা। সততার প্রয়োজনীয়তা হলো-
১. সততা মানুষকে ভালো কাজের দিকে পরিচালিত করে।
২. সততা সমাজে সুখ শান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৩. সততা মানুষকে জান্নাতে পৌঁছে দেয়।
৪. সকলের বিশ্বাস অর্জন করা যায়।
৫. সততার কারণে শত্রুরাও শ্রদ্ধার চোখে দেখে।
৬. সততার কারণে মহান আল্লাহর প্রিয় হওয়া যায়।
প্রশ্ন: প্রাকৃতিক দুর্যোগ কী? উক্ত দুর্যোগের ক্ষতিকর দিকগুলো আলোচনা কর।
উত্তর: প্রাকৃতিক কোনো দুর্ঘটনা বা বিপর্যয় যখন কোনো জনপদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তোলে, তখন তাকে আমরা ‘বলি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশের অনেক ক্ষতি হয়ে থাকে। যেমন, জলোচ্ছ্বাসের কারণে উপকূলবর্তী অঞ্চলসমূহে সমুদ্রের লোনা পানি ঢুকে যায়। ফলে গাছপালা, মৎসখামার ও শস্যক্ষেতের অনেক ক্ষতি হয়। জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয়। জমির উর্বরা শক্তি কমে যায়। কৃষি উৎপাদন কমে যায়।