বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থান ও নিদর্শন
নমুনা প্রশ্ন
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়
প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন- ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
(ক) সোমপুর মহাবিহার কোথায় অবস্থিত? সোমপুর মহাবিহারের উল্লেখযোগ্য ছয়টি দিক লেখো।
উত্তর: সোমপুর মহাবিহার রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ জেলায় অবস্থিত। সোমপুর মহাবিহারের উল্লেখযোগ্য ছয়টি দিক হলো-
১. সোমপুর মহাবিহার ৭৮১-৮২১ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত।
২. পাল রাজা ধর্মপালের শাসনামলে নির্মিত হয়।
৩. এই গড় ২৪ মিটার উঁচু।।
৪. এ বৌদ্ধ বিহারের চারপাশে ১৭৭টি ভিক্ষুকক্ষ আছে।
৫. এখানে মন্দির, রান্নাঘর, খাবার ঘর এবং পাকা নৰ্দমা আছে।
৬. এখানে জীবজন্তুর মূর্তি ও টেরাকোটা পাওয়া গেছে।
(খ) শুভ্রার বাবা নরসিংদী থেকে ফিরে বললেন, “জেলাটিতে একটি প্রাচীন নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে।” নিদর্শনটির নাম কী? এটি কোন দুটি গ্রামে অবস্থিত? ৫টি বাক্যে নিদর্শনটির বিবরণ দাও।
উত্তর: নিদর্শনটির নাম উয়ারী-বটেশ্বর। নরসিংদী জেলার উয়ারী ও বটেশ্বর নামক দুইটি গ্রামে এটি অবস্থিত।
উয়ারী-বটেশ্বর সভ্যতাটি মৌর্য আমলের আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সভ্যতাটি সমুদ্র বাণিজ্যের সাথে সম্পর্কিত ছিল। প্রাচীন নগরসভ্যতার নিদর্শনস্বরূপ এখানে প্রাচীন রাস্তাঘাট পাওয়া গেছে। উয়ারী-বটেশ্বরে প্রাপ্ত জিনিসের মধ্যে রয়েছে ছাপাঙ্কিত রৌপ্যমুদ্রা, হাতিয়ার এবং পাথরের পুঁতি। এসব নিদর্শনের মধ্য দিয়ে আমরা ফেলে আসা সময়কে জানতে পারি।
(গ) সোনারগাঁও এবং এর প্রাচীন স্থাপত্য আমাদের ঐতিহ্যেরই অনুষঙ্গ- তোমার জানা তথ্যের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: সোনারগাঁও সুলতানি আমলে বাংলার রাজধানী ছিল। পরবর্তীতে মোগল আমলে এর গুরুত্ব কমে গেলেও মসলিন শাড়ির উৎপাদন ও ব্যবসাকেন্দ্র হিসেবে এর খ্যাতি ছিল। উনিশ শতকে ধনী ব্যবসায়ীরা সোনারগাঁওয়ের পানাম এলাকাটিকে বসবাসের জন্য বেছে নেয়। সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত লোকশিল্প জাদুঘর বাংলাদেশের অন্যতম দর্শনীয় স্থান। এখানে প্রাচীন সুলতানদের ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্র, তৈজসপত্র, পোশাক, বর্ম, অলংকার ইত্যাদি আছে। এছাড়া প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বিভিন্ন নিদর্শন এবং বাংলার প্রাচীন মুদ্রা রয়েছে। এখানকার প্রাচীন স্থাপত্যগুলো তৎকালীন আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ইতিহাস এবং স্থাপত্য শিল্প সম্পর্কে জানতে আমাদের সাহায্য করে। যা আমাদের ঐতিহ্যের অনুষঙ্গ।
(চ) উয়ারী-বটেশ্বরে কোন আমলের নিদর্শন পাওয়া গেছে? এ স্থানটি বাণিজ্যের সাথে সম্পর্কিত ছিল কেন? এ স্থানের চারটি নিদর্শনের নাম লেখো।
উত্তর: খ্রিষ্টপূর্ব ৪৫০ অব্দের মৌর্য আমলের পূর্বের নিদর্শন পাওয়া গেছে। অতীতে এ স্থানটিতে জলপথে যাতায়াতের সুব্যবস্থা থাকায় সমুদ্র বাণিজ্যের সাথে সম্পর্কিত ছিল।
উয়ারী-বটেশ্বরে প্রাপ্ত চারটি নিদর্শন হচ্ছে-
১. প্রাচীন রাস্তাঘাট।
২. রৌপ্যমুদ্রা।
৩. হাতিয়ার।
৪. পাথরের পুঁতি।