বাক্য সংকোচন

বাক্য সংকোচন বা এক কথায় প্রকাশ

বিভিন্ন রকম নারী প্রসঙ্গ…

১.         যে নারী একটি মাত্র সন্তান প্রসব করেছে – কাকবন্ধ্যা।

২.         যে নারীর হিংসা নাই – অনসূয়া।

৩.         যে নারীর এখনও বিয়ে হয়নি- অনূঢ়া।

৪.         যে নারীর পালন অপরের দ্বারা- পরভৃতিকা।

৫.         যে নারীর স্বামী – পুত্র নেই- অভীরা।

৬.         যে নারীর কেশ সুন্দর- সুকেশা।

৭.         যে নারীর দাত সুন্দর- সুদন্তী।

৮.         যে নারীর সম্প্রতি বিবাহ হয়েছে- নবোঢ়া।

৯.         যে নারীর স্বামী বিদেশে থাকে – প্রোষিতভর্তৃকা।

১০.       যে নারী পূর্বে অন্যের বাগদত্তা ছিল- অন্যপূর্বা।

১১.        যে নারী স্বামীর প্রতি অনুরক্তা- পতিব্রতা।

১২.       অন্য কতৃক বিবাহিতা- পরোঢ়া।

১৩.       যে নারী বীর-বীরাঙ্গনা

১৪.        যে নারী শিশুসন্তানসহ বিধবা-বালপুত্রিকা

১৫.       যে নারী চিত্রে অর্পিতা বা নিবদ্ধা-চিত্রার্পিতা

১৬.       যে নারী বীর সন্তান প্রসব করে-বীরপ্রসূ

১৭.        যে নারী দেহ সৌষ্ঠব সম্পন্না-অঙ্গনা

১৮.       যে নারী সুন্দরী-রামা

১৯.       যে নারী সাগরে বিচরণ করে-সাগরিকা

২০.       যে নারীর স্বামী ও পুত্র জীবিত-বীরা বা পুরন্ধ্রী

২১.       যে নারীর বিয়ে হয়েছে-ঊঢ়া

২২.       যে নারীর নখ শূর্পের (কুলা) মত-শূর্পণখা

২৩.       যে নারীর দুটি মাত্র পূত্র – দ্বিপুত্রিকা

২৪.       যে নারীর পঞ্চ স্বামী-পঞ্চভর্তৃকা

২৫.       যে নারীর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে হয়েছে-অধিবিন্না

২৬.       যে নারীর হাসি সুন্দর-সুস্মিতা

২৭.       যে নারীর হাসি কুটিলতাবর্জিত-শুচিস্মিতা

২৮.       যে মেয়ের বয়স দশ বৎসর-কন্যকা

২৯.       অবিবাহিতা জ্যেষ্ঠা থাকার পরও যে কনিষ্ঠার বিয়ে হয়-অগ্রোদিধিষু

৩০.       গোয়ালার মেয়ে- গোপী

বিভিন্ন রকম পুরুষ (স্বামী) প্রসঙ্গঃ-

১.         যে স্বামীর স্ত্রী বিদেশে থাকে – প্রোষিতভার্যা।

২.         যুবতী জায়া যার- যুবজানি।

৩.         স্ত্রীর বশীভূত যে – স্ত্রৈণ।

৪.         প্রথমা স্ত্রী জীবিত থাকিতে দ্বিতীয় বার দার গ্রহণ – অধিবেদন।

৫.         যে (পুরুষ) দ্বার পরিগ্রহ করে নি-অকৃতদার

৬.         যে (পুরুষ) দ্বার পরিগ্রহ করেছে-কৃতদার

৭.         যে (পুরুষ) প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকতে দ্বিীয় দার পরিগ্রহ করেছে-অধিবেত্তা

বিভিন্ন রকম ইচ্ছা…

৮.         বলার ইচ্ছা – বিবক্ষা।

৯.         দেখার ইচ্ছা- দিদৃক্ষা।

১০.       করার ইচ্ছা- চিকীর্ষা।

১১.        শোনার ইচ্ছা- শুশ্রূষা।

১২.       হনন করার ইচ্ছা – জিঘাংসা।

১৩.       নিন্দা/ গোপন করার ইচ্ছা -জুগুপ্সা।

১৪.        পান করবার ইচ্ছা- পিপাসা।

১৫.       ভোজন করিবার ইচ্ছা – বুভুক্ষা/ জিঘৎসা।

১৬.       বমন করিবার ইচ্ছা- বিবমিষা।

১৭.        বেঁচে থাকার ইচ্ছা- জিজীবিষা।

১৮.       সেবা করার ইচ্ছা- সিষেবিষা।

১৯.       গমনের ইচ্ছা- জিগমিষা।

২০.       বিজয় লাভ করার ইচ্ছা- বিজিগীষা।

২১.       প্রতিবিধান/প্রতিকার করার ইচ্ছা- প্রতিবিধিৎসা।

২২.       যুদ্ধ করার ইচ্ছা- যুযুৎসা।

২৩.       প্রবেশের ইচ্ছা- বিবিক্ষা।

২৪.       মুক্তি পেতে ইচ্ছুক- মুমুক্ষু।

২৫.       ক্ষমা করার ইচ্ছা- তিতিক্ষা।

২৬.       হরণ করার ইচ্ছা- জিঘীর্ষা।

২৭.       সৃষ্টি করার ইচ্ছা- সিসৃক্ষা।

২৮.       যে রূপ ইচ্ছা-  যদৃচ্ছা।

২৯.       রমনের ইচ্ছা-  রিরংসা।

৩০.       প্রতিকার করার ইচ্ছা- প্রতিচিকীর্ষা।

৩১.       উদক (জল) পানের ইচ্ছা- উদন্যা।

৩২.       ত্রাণ লাভ করার ইচ্ছা- তিতীর্ষা।

৩৩.       দান করার ইচ্ছা- দিৎসা।

৩৪.       প্রিয় কাজ করার ইচ্ছ- প্রিয়চিকীর্ষা।

৩৫.       বাস করার ইচ্ছা- বিবৎসা।

৩৬.       মুক্তি পেতে ইচ্ছা- মুমুক্ষা।

বিভিন্ন রকম ডাক ও ধ্বনি…

১.         অশ্বের ডাক- হ্রেষা।

২.         বাঘের ডাক- কৃত্তি।

৩.         ময়ূরের ডাক- কেকা।

৪.         কুকুরের ডাক- বুক্কন।

৫.         মেঘের ডাক- মন্দ্র।

৬.         হস্তির চিৎকার – বৃংহতি।

৭.         হরিণের চামড়া – অজিন।

৮.         বীণার ঝংকার -নিক্কন।

৯.         সিংহের গর্জন- নাদ।

১০.       কর্কশ ধ্বনি- ক্রেঙ্কার।

১১.        অলংকারের ধ্বনি- শিঞ্জন।

১২.       গম্ভীর ধ্বনি- মন্ত্র।

১৩.       ধনুকের ধ্বনি- টংকার ঝনঝন শব্দ- ঝনৎকার।

১৪.        অতি উচ্চৈঃস্বর- তারস্বর।

১৫.       বাদ্যযন্ত্রের ধ্বনি-ঝংকার।

১৬.       নূপুরের ধ্বনি- নিক্বন।

১৭.        শুকনো পাতার শব্দ- মর্মর।

১৮.       সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ- কল্লোল।

১৯.       বীরের গর্জন- হুঙ্কার।

২০.       ঝনঝন শব্দ- ঝনৎকার।

২১.       গম্ভীর ধ্বনি- মন্দ্র।

২২.       বিহংগের ধ্বনি- কাকলি।

২৩.       গাধার ডাক- রাসভ।

দিবস (দিন) ও রাত্রির বিভিন্ন সময় সংক্রান্ত:-

১.         দিনের পূর্ব ভাগ- পূর্বাহ্ণ।

২.         দিনের মধ্য ভাগ- মধ্যাহ্ন।

৩.         দিনের অপর ভাগ- অপরাহ্ণ।

৪.         দিনের সায় (অবসান) ভাগ- সায়াহ্ন।

৫.         রাত্রির মধ্যভাগ- মহানিশা।

৬.         রাত্রির শেষভাগ- পররাত্র।

৭.         রাত্রির তিনভাগ একত্রে- ত্রিযামা।

৮.         যে দিন তিন তিথির মিলন ঘটে- ত্র্যহস্পর্শ।

৯.         মাসের শেষ দিন- সংক্রান্তি।

১০.       দিনের আলো ও রাতের আধারের সন্ধিক্ষণ- সায়াহ্ন।

বিভিন্ন কর্মকান্ড সংক্রান্তঃ-

১. নিতান্ত দগ্ধ হয় যে সময়ে – নিদাঘ।

২.         যা অধ্যয়ন করা হয়েছে – অধীত।

৩.         যা লাফিয়ে চলে – প্ল¬বগ।

৪.         অর্থহীন উক্তি- প্রলাপ।

৫.         অনাবৃত দেহে রৌদ্র স্নান- সূর্যস্নান।

৬.         যাহা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না – অনির্বচনীয়।

৭.         যাহা বাক্য ও মনের অগোচর- অবাঙমানসগোচর।

৮.         চর্বিত চর্বন প্রক্রিয়া- রোমন্থন।

৯.         এক ভাষার মধ্যে অন্য ভাষার প্রয়োগ- বুকনি।

১০.       ঠেঙিয়ে ডাকাতি করে যারা- ঠ্যাঙারে।

১১. মিলনের ইচ্ছায় নায়ক বা নায়িকার সঙ্কেত স্থানে গমন- অভিসার।

বিভিন্ন স্থান প্রসঙ্গ-

১.         যেখানে মৃত জীব-জন্তু ফেলা হয়- ভাগাড়।

২.         অশ্ব রাখার স্থান- আস্তাবল।

৩.         হস্তী রাখার স্থান- বারী/পিলখানা।

৪.         হস্তীর চারণভূমি- প্রচার।

৫.         অন্তর্গত অপ যার- অন্তরীপ।

৬.         আকাশ ও পৃথিবী- ক্রন্দসী।

৭.         যেখানে মাছি পর্যন্ত নাই- নির্মক্ষিক।

৩৭.       যার দুই দিক বা চার দিকে জল- দ্বীপ

বিভিন্ন উপাদান, বিষয়, প্রক্রিয়া, বস্তু প্রসঙ্গঃ-

১.         বৃষ্টির জল- শীকর।

২.         বছর শেষে আয়-ব্যয়ের প্রতিবেদন- সালতামামি।

৩.         ডালিমের কুড়ি- আনার কলি।

৪.         ফুলের মধু- মকরন্দ।

৫.         মাথার খুলি- করোটি।

৬.         পূর্ণিমার চাঁদ- রাকা।

৭.         প্রদীপ শীর্ষের কালি- অঞ্জন।

৮.         যে-বস্তু পাইতে ইচ্ছা করা যায়- ঈপ্সিত।

৯.         ঘর্ষণ বা পেষণ জাত গন্ধ- পরিমল।

১০.       আয়ুর পক্ষে হিতকর- আয়ুষ্য।

১১.        ঋষির দ্বারা উষ্ণ- আর্য।

১২.       পা ধুইবার জল- পাদ্য।

১৩.       অগ্নি উৎপাদনের কাঠ- অরণি।

১৪.        যে আলোতে কুমুদ ফোটে- কৌমুদী (জ্যোৎন্না)।

১৫.       যা বচন/বাক্যে প্রকাশযোগ্য নয়- অনির্বচনীয়।

১৬.       যা পূর্বে চিন্তা করা যায় নি-অচিন্তিতপূর্ব।

১৭.        যা উচ্চারণ করা যায় না- অনুচ্চার্য।

১৮.       যা উচ্চারণ করা কঠিন- দুরুচ্চার্য।

১৯.       যা আগুনে পোড়ে না- অগ্নিসহ।

২০.       যা বহন করা হচ্ছে- নীয়মান।

২১.       যা বলা হচ্ছে- বক্ষ্যমাণ।

২২.       যা মুছে ফেলা যায় না- দুর্মোচ্য।

২৩.       জ্বলছে যে অর্চি (শিখা)- জ্বলদর্চি।

২৪.       এক থেকে শুরু করে- একাধিক্রমে।

            বিভিন্ন জীব-জন্তু  প্রসঙ্গঃ-

১.         গবাদি পশুর পাল- বাথান।

২.         দুগ্ধবতী গাভী- পয়স্বিনী।

৩.         অশ্ব, হস্তী, রথ ও পদাতিক- চতুরঙ্গ।

৪.         উড়ন্ত পাখির ঝাঁক- বলাকা।

ব্যক্তি  প্রসঙ্গঃ-

১.         যে অপরের লেখা চুরি করে- কুম্ভীল।

২.         পায়ে হেটে গমন করে যে- পন্নগ।

৩.         যে বাঘের চামড়া পরিধান করে- কৃত্তিবাস।

৪.         হস্তি চালায় যে- মাহুত।

৫.         সূর্যের উপাসক- সৌর।

৬.         যে কোনো বিষয়ে স্পৃহা হারিয়েছে – বীতস্পৃহ।

৭.         যার উভয় হাত সমান চলে – সব্যসাচী।

৮.         ভবিষ্যৎ না ভেবে কাজ করে – অবিমৃশ্যকারী।

৯.         যাহার দাড়ি  উঠে নাই – অজাতশ্মশ্র“।

১০.       শক্তির উপাসনা করে যে- শাক্ত।

১১.        যে গমন করে না- নগ।

১২.       যে গাজার নেশা করে – গেঁজেল

            জয়,দমন ও অতিক্রম প্রসঙ্গঃ-বাক্য সংকোচন

১.         ইন্দ্রীয়কে জয় করেছে যে – জিতেন্দ্রীয়।

২.         ইন্দ্রকে জয় করেছে যে – ইন্দ্রজিত।

৩.         শত্রুকে হনন করে যে – শত্রুঘ্ন।

৪.         অরিকে দমন করে যে- অরিন্দম

578 Views
Leave A Reply

Your email address will not be published.