তৃতীয় অধ্যায়: বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থান ও নিদর্শন

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতি ২০২২

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

তৃতীয় অধ্যায়: বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থান ও  নিদর্শন

কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন

(১) ময়নামতি কোন জেলায় অবস্থিত? এই জায়গার নাম ময়নামতি হয়েছে কেন? ময়নামতি সম্পর্কে চারটি বাক্য লেখ।

উত্তর: ময়নামতি কুমিল্লা জেলায় অবস্থিত।

রাজা মানিক চন্দ্রের স্ত্রী ময়নামতির নামানুসারে এ জায়গার নাম ময়নামতি হয়েছে।

ময়নামতি সম্পর্কে চারটি বাক্য হলো:

(ক) ময়নামতি অষ্টম শতকের একটি  ঐতিহাসিক নিদর্শন।

(খ) বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের কুমিল্লা শহরের কাছে ময়নামতি অবস্থিত।

(গ) এটি বৌদ্ধ সভ্যতার অন্যতম কেন্দ্র ছিল।

(ঘ) এখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিদর্শন পাওয়া গেছে।

(২) পাহাড়পুর কোন জেলায় অবস্থিত? এটি নির্মাণ করা হয়েছিল কেন? পাহাড়পুর সম্পর্কে চারটি বাক্য লেখ।

উত্তর: পাহাড়পুর রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ জেলায় অবস্থিত।

বৌদ্ধ ভিক্ষুদের জ্ঞান সাধনার জন্য এটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

পাহাড়পুর সম্পর্কে চারটি বাক্য হলো:

(ক) পাহাড়পুর একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন।

(খ) ৭৮১-৮২১ খ্রিস্টাব্দে পাল রাজা ধর্মপালের শাসনামলে এটি নির্মিত হয়।

(গ) এখানে ২৪ মিটার উঁচু গড় রয়েছে যেটি ‘সোমপুর মহাবিহার’ নামেও পরিচিত।

(ঘ) সোমপুর মহাবিহার ছাড়াও পাহাড়পুরে মন্দির, রান্নাঘর, খাবার ঘর এবং পাকা নর্দমা রয়েছে।

(৩) মৌর্য আমলে ‘মহাস্থানগড়’ কী নামে পরিচিত ছিল? এটি গুরুত্বপূর্ণ কেন? মহাস্থানগড়ে প্রাপ্ত চারটি নিদর্শনের নাম লেখ।

উত্তর: মৌর্য আমলে মহাস্থানগড় ‘পুন্ড্রনগর’ নামে পরিচিত ছিল।

খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ অব্দ থেকে ১৫০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় দীর্ঘ ১৯০০ বছরের ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে বলে এটি গুরুত্বর্পর্ণ।

মহাস্থানগড়ে প্রাপ্ত চারটি নিদর্শন হলো:

(ক) চওড়া খাদ ‍বিশিষ্ট প্রাচীন দুর্গ।

(খ) প্রাচীন ব্রাহ্মী শিলালিপি।

(গ) মন্দিরসহ অন্যান্য ধর্মীয় ভগ্নাবশেষ।

(ঘ) ৩.৩৫ মিটার লম্বা ‘খোদাই পাথর’।

(৪) সোনারগাঁ কোন নদীর তীরে অবস্থিত? এটি নদীর ধারে উঠার কারণ কী? সোনারগাঁ সম্পর্কে চারটি বাক্য লেখ।

উত্তর: সোনারগাঁ নারায়ণগঞ্জ জেলার মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত।

শহরটির গুরুত্ব বিবেচনা করে যোগাযোগ ও নিরাপত্তার সুবিধার কারণে এটি নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল।

সোনারগাঁ সম্পর্কে চারটি বাক্য হলো:

(ক)  সোনারগাঁ প্রাচীন বাংলার মুসলমান সুলতানদের রাজধানী ছিল।

(খ) এখনো সেখানে সুলতানি আমলের অনেক সমাধি রয়েছে, যার একটি গিয়াসউদ্দিন আযম শাহের মাজার।

(গ) উনিশ শতকে হিন্দু বণিকদের সুতা বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে এখানে পানাম নগর গড়ে ওঠে।

(ঘ)  সোনারগাঁয়ের গৌরব ধরে রাখার জন্য শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ১৯৭৫ সালে এখানে একটি লোকশিল্প জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেন।

(৫) লালবাগ কেল্লা কত খ্রিষ্টাব্দে এবং কোথায় নির্মাণ করা হয়? এ নিদর্শনটি সম্পর্কে চারটি বাক্য লেখো।

উত্তর: ১৬৭৮ খ্রিষ্টাব্দে লালবাগ কেল্লা নির্মাণ করা হয়।

ঢাকার দক্ষিণ-পশ্চিমে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে এই দুর্গটি অবস্থিত।

লালবাগ কেল্লা সম্পর্কে চারটি বাক্য হলো:

(ক)  দুর্গটি সম্পূর্ণ ইটের তৈরি।

(খ) দুর্গের মাঝখানে খোলা জায়গায় মুঘল শাসকেরা তাঁবু টাঙিয়ে বসবাস করতেন।

(গ) দুর্গের দক্ষিণে গোপন প্রবেশপথ এবং একটি তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ রয়েছে।

(ঘ) বর্তমানে এটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

517 Views
Leave A Reply

Your email address will not be published.