এসএসসি পৌরনীতি ও নাগরিকতা অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১ (৪র্থ সপ্তাহ)

ক এর নমুনা উত্তর

রাষ্ট্র ‍ও রাষ্ট্রের উপাদান

রাষ্ট্র: রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান যেখানে শাসক ও শাসিতের সম্পর্ক বিদ্যমান। রাষ্ট্রে কেউ আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করেন। অন্যরা আনুগত্য দান করেন।

রাষ্ট্র সম্পর্কে অ্যারিস্টটল বলেন—“স্বাবলম্বী এবং পূর্ণাঙ্গ জীবনযাপনের জন্য যখন কতকগুলি পরিবার বা গ্রাম একসঙ্গে মিলিত হয়, তখন তাকে বলে রাষ্ট্র।

কিন্তু অ্যারিস্টটলের সংজ্ঞা অসম্পূর্ণ। বর্তমানে পরিবার ও গ্রাম ছাড়া রাষ্ট্রের মধ্যে শহরও থাকে। এই সংজ্ঞার মধ্যে তার কোনো উল্লেখ নেই।

রাষ্ট্রপতি উইলসন বলেছেন—“নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে আইন অনুসারে সংঘবদ্ধ জনসমষ্টির নাম রাষ্ট্র।”

 জার্মান দার্শনিক বুন্টসলি রাষ্ট্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন—“রাষ্ট্র হল নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত জনসমাজ।”

লেনিন (Lenin) বলেছেন—“রাষ্ট্র হল শ্রেণিশাসনের একটি যন্ত্র, যে যন্ত্র দিয়ে এক শ্রেণি অপর শ্রেণিকে শােষণ করে।

অধ্যাপক গার্নার এর ভাষায় বলা যায়, “রাষ্ট্র হল বহুসংখ্যক ব্যক্তি নিয়ে গঠিত এমন একটি জনসমাজ যা নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস করে, যা বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণ থেকে সম্পূর্ণ বা প্রায় সম্পূর্ণ মুক্ত এবং যার একটি সুগঠিত শাসনব্যবস্থা আছে যে শাসনব্যবস্থার প্রতি অধিবাসীদের অধিকাংশই স্বাভাবিকভাবে আনুগত্য দেখায়।”

রাষ্ট্রের এসব সংজ্ঞা থেকে বলা যায়, যে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সংগঠিত সরকার, জনসমষ্টি এবং সার্বভৌম ক্ষমতা রয়েছে, তাকে রাষ্ট্র বলে।

রাষ্ট্রের উপাদান
রাষ্ট্রের সংজ্ঞা ব্যাখ্যা করলেই রাষ্ট্র কি কি উপাদান নিয়ে গঠিত তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রাষ্ট্রের উপাদান চারটি। এই চার উপাদানের সমন্বয়ে রাষ্ট্র গঠিত হয়।
১. জনসমষ্টি
২. নির্দিষ্ট ভূখণ্ড
৩. সরকার ও
৪. সার্বভৌমত্ব।

জনসমষ্টি: জনসমষ্টি রাষ্ট্রের প্রথম উপাদান। রাষ্ট্র গঠনে জনসমষ্টি অপরিহার্য। জনহীন অরণ্যে বা জনশূন্য মরুভূমিতে কখনই রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না। রাষ্ট্রে জনসংখ্যা কত হবে তার কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। সানম্যারিনো রাষ্ট্রে তেত্রিশ হাজারের কিছু বেশি, আর চীন প্রায় একশত আটত্রিশ কোটি জনসংখ্যা নিয়ে গঠিত।

নির্দিষ্ট ভূ-খণ্ড: এটি রাষ্ট্রের দ্বিতীয় উপাদান। যে জনসমষ্টি রাষ্ট্র গঠন করবে তাদেরকে অবশ্যই একটি ভূখণ্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে হবে। এই নির্দিষ্ট ভূখণ্ড যেকোনো আয়তনের হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ- গণচীনের আয়তন ৪৪.৫ লক্ষ বর্গমাইল আর হল্যান্ডের (নেদারল্যান্ডস) আয়তন মাত্র সাড়ে বার হাজার বর্গ মাইল।

সরকার: রাষ্ট্র গঠনের তৃতীয় উপাদান সরকার। সরকার ব্যতীত জনসমষ্টি নির্দিষ্ট ভূ-খণ্ডে বাস করে রাষ্ট্র গঠন করতে পারে না। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে যারা থাকেন তাদের নিয়েও অর্থাৎ রাষ্ট্রের আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগের সমন্বয়ে সরকার গঠিত হয়। বিভিন্ন রাষ্ট্রে বিভিন্নরূপ সরকার থাকে।

সার্বভৌমত্ব: রাষ্ট্র গঠনের মুখ্য উপাদান সার্বভৌমত্ব বা সার্বভৌমিকতা। এটা হল রাষ্ট্রের চরম ও চূড়ান্ত ক্ষমতা। এই ক্ষমতার জন্য জনসমষ্টি রাষ্ট্রে পরিণত হয়। এই ক্ষমতা রাষ্ট্রকে অন্যান্য সংস্থা থেকে পৃথক করে। সার্বভৌম ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক দুটি দিক আছে। অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার বলে রাষ্ট্র সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর কর্তৃত্ব করে। বাহ্যিক সার্বভৌম ক্ষমতার বলে রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণ ও হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত থাকে। জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড ও সরকার থাকা সত্ত্বেও একটি দেশ সার্বভৌম ক্ষমতা না থাকলে রাষ্ট্র বলে গণ্য হবে না। এই চারটি উপাদান নিয়ে রাষ্ট্র গঠিত। যেকোনো একটি উপাদান অনুপস্থিত থাকলে রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না।

খ এর নমুনা উত্তর

রাষ্ট্র একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। রাষ্ট্রের উৎপত্তির ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক আছে। মূলত মানুষের বিবর্তনের এক পর্যায়ে প্রথমে গঠিত হয় পরিবার, তারপর সমাজ। সমাজ জীবনের এক পর্যায়ে মানুষ শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠ্য এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য রাষ্ট্র গঠন করে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীগণ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদ আলোচনা করেছেন। রাষ্ট্রের গঠন, প্রকৃতি, উদ্দেশ্য ও কার্যাবলি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জনের জন্য এর উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদ জানা জরুরি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তা এবং যে বিবর্তনের পথ ধরে রাষ্ট্র বর্তমান স্তরে এসে পৌঁছেছে সেটা বিশ্লেষণের জন্যও এর উৎপত্তি জানা দরকার। রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন মতবাদ চালু আছে, তার মধ্যে- ঐশ্বরিক মতবাদ, বল প্রয়োগ মতবাদ, পিতৃতান্ত্রিক মতবাদ, সামাজিক চুক্তি মতবাদ, ঐতিহাসিক মতবাদ প্রভৃতি প্রধান। নিম্নে মতবাদগুলো আলোচনা করা হলো-

১. ঐশ্বরিক মতবাদ।

২. বল প্রয়োগ মতবাদ।

৩. সামাজিক চুক্তি মতবাদ।

৪. ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদ।

ঐশ্বরিক মতবাদঃ

ঐশ্বরিক বা বিধাতার সৃষ্টি মতবাদ রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রাড় মতবাদের মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন। এ মতবাদের মূল কথা হলো, রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়েছে ঈশ্বর বা বিধাতার ইচ্ছানুযায়ী। রাষ্ট্র সৃষ্টিতে ব্যক্তির ইচ্ছা-অনিচ্ছার গুরুত্ব নেই। সচ্ছ পৃথিবীর শাসনকর্তা সত্যিকার অর্থে সৃষ্টিকর্তা। তবে সৃষ্টিকর্তা নিজে রাষ্ট শাসন করেন না। তিনি প্রতিনিধির মাধ্যমে রাষ্ট্র শাসন করেন। শাসক বা রাজা হলো ঈশ্বরের প্রতিনিধি। সৃষ্টিকর্তাকে যেমন অমান্য করা যায় না, তদ্রুপ তাঁর প্রতিনিধি রাজাকেও অমান্য তুচ্ছ করা যায় না। রাজা বা শাসকের আদেশ-সৃষ্টিকর্তারই নির্দেশ। রাজাকে অবমাননা করা মানেই সৃষ্টিকর্তাকে অবমাননা করা। শাসন করার ক্ষেত্রে রাজা ঈশ্বর ছাড়া আর কারো কাছে দায়বদ্ধ নয়।

এ কারণে রাজার স্থায়ীত্ব জনগণের ওপর নির্ভশীল নয়। শাসকগণ একইসঙ্গে রাষ্ট্রপ্রধান এবং ধর্মীয় প্রধান। মধ্যযুগের রাষ্ট্রচিন্তাবিদ সেন্ট অগাস্টিন মূলত এই চিন্তার প্রবক্তা। জন অব সেলিস বেরী, সেন্ট টমাস একুইনাস, সেন্ট গ্রেগরী, ফরাসি সম্রাট চতুর্দশ লুই এই মতবাদ বিশ্বাস করতেন। বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থেও এই মতবাদের স্বীকৃতি মেলে। ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থ ওল্ড টেস্টামেন্ট-এ বলা হয়েছে। রাষ্ট্র বিধাতারই সৃষ্টি। খ্রিস্টানদের ধর্মগ্রন্থ বাইবেল এবং হিন্দুদের অন্যতম ধর্মগ্রন্থ মহাভারতে ঐশ্বরিক মতবাদের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। বিভিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠীতে পুরোহিত ও যাজকদের ক্ষমতা চর্চার ক্ষেত্রেও এই মতবাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

বল প্রয়োগ মতবাদ: বল প্রয়োগ মতবাদের সারকথা হলো- রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়েছে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে। এই মতবাদে বিশ্বাসীদের মতে, আদিম সমাজে যারা দৈহিক শক্তির অধিকারী ছিল তারা বলপ্রযোগ করে নিজ গোত্রে বা গোষ্ঠীর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করত। কালক্রমে খাদ্য ও বাসস্থানের চাহিদার কারণে শক্তিশালী গোত্রে আবার অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী গোত্রের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করত। আর এভাবে সবলরা অপেক্ষাকৃত দুর্বলদের ওপর শক্তি প্রয়োগ করে আইন-কানুন চাপিয়ে দিয়ে রাষ্ট্র গঠন করেছে। অর্থাৎ বৃহত্তর সমাজ শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হয়েছে। এই মতবাদ অনুযায়ী শক্তি হলো রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি (Force is the basis of state)। শক্তিশালী গোত্র শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্বল গোত্রকে পরাজিত করে প্রাধান্য বিস্তার করত। এই তত্ত্ব অনুসারে যুদ্ধ-বিগ্রহ, সহিংসতা, রক্তপাত, দ্বন্দ্ব-সংঘাত এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়েছে। এই মতবাদে ঈশ্বরের প্রতিনিধিত্বের কিংবা জনগণের সম্মতির কোন স্থান নেই। যুদ্ধের মাধ্যমে এক গোত্র আরেক গোত্রের পদানত হয়। অনেকক্ষেত্রে পরাজিত গোষ্ঠী দাস সমাজে রূপান্তরিত হয়েছে। এই মতবাদের সঙ্গে দাসদের উদ্ভবের বিষয়টি অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত ডেভিড হিউমকে এই মতবাদের প্রবক্তা বলা হলেও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জেংকস, জেলীনক, অধ্যাপক লিকক, বার্নহার্ডী, জেরমী টেলর প্রমুখ এ মতবাদ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জেংকস বলেন, ঐতিহাসিক দিক থেকে বিচার করলে সহজেই প্রমাণ করা যায়, রাষ্টসহ আধুনিক সকল সংগঠন সার্থক যুদ্ধের ফলশ্রুতি। তার স্পষ্ট অভিমত আধুনিক রাষ্ট্রসমূহের জন্ম হয়েছে সফল যুদ্ধের মাধ্যমে।

সামাজিক চুক্তি মতবাদঃ সামাজিক চুক্তি মতবাদ রাষ্ট্রের উৎপত্তির ক্ষেত্রে একটি কাল্পনিক মতবাদ। এই মতবাদের মূল কথা হলো – সৃষ্টির শুরুতে বা আদিম সমাজে মানুষ প্রকৃতির রাজ্যে বাস করত। প্রকৃতির রাজ্যের মানুষ প্রাকৃতিক আইন মেনে চলতো এবং তারা কিছু পুত্র কৃতিক অধিকার ভোগ করত। কিন্তু প্রাকৃতিক আইন ও অধিকার সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যাখ্যার ফলে প্রকৃতির রাজ্যে মানুষের বসবাস দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য প্রকৃতির রাজ্যের অধিবাসীরা নিজেদের মধ্যে চুক্তি করে রাষ্ট্র গঠন করে। একই সঙ্গে একজন ব্যক্তি অথবা একটি কর্তৃপক্ষকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার অর্পণ করে। যেহেতু রাষ্ট্র চুক্তির মাধ্যমে গড়ে উঠেছে সেহেতু এ মতবাদকে সামাজিক চুক্তি মতবাদ (Social contract theory) বলে। সপ্তদশ শতাব্দীতে টমাস হবস তার বিখ্যাত লেভিয়াথান গ্রন্থে এ বিষয়ে আলোচনা করেন। পরবর্তীতে আধুনিক গণতন্ত্রের জনক জন লক টু ট্রিটিজেস অন সিভিল গভর্নমেন্ট গ্রন্থে এবং অস্টাদশ শতাব্দীতে ফরাসি দার্শনিক জ্যা জ্যাক রুশো ‘সোস্যাল কন্ট্রাক্ট’ গ্রন্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। মূলত এ তিনজনকেই সামাজিক চুক্তি মতবাদের তাত্ত্বিক বলা হয়। প্রাচীন গ্রিসের সোফিস্ট্র গণ এ মতবাদে বিশ্বাস করতেন। প্লেটো, এরিস্টটলের লেখায়ও এ বিষয়ের ইঙ্গিত আছে।

ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদ: রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদগুলোর মধ্যে এ মতবাদ সবচেয়ে আধুনিক, যুক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য মতবাদ। বিবর্তনমূলক মতবাদের মাধ্যমেই রাষ্ট্রের উৎপত্তির সবচে সঠিক বর্ণনা পাওয়া যায়। এ মতবাদের মূল কথা হলো, রাষ্ট্র কোন একটি বিশেষ কারণে হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি। বহু যুগের বিবর্তনের ফল রাষ্ট্র। পরিবার কিংবা সমাজ থেকে রাষ্ট্রের বিবর্তনে কতকগুলো উপাদান কাজ করেছে। অধ্যাপক গার্নার, বার্জেস, গেটেলসহ প্রমুখ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রাষ্ট্রের উদ্ভবের ক্ষেত্রে এ মতবাদকে সর্বশ্রেষ্ঠ বলে রায় দিয়েছেন।

গ এর নমুনা উত্তর:

রাষ্ট্র ও সরকারের সম্পর্ক:

প্রাচীনকালে রাষ্ট্র ও সরকারের কোনো পার্থক্য করা হতো না। ফ্রান্সের চতুর্দশ লুই বলতেন, আমিই রাষ্ট্র। আধুনিককালে রাষ্ট্র ও সরকারের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে, নিন্মে আলোচনা করা হলো-

ক. গঠনগত:  জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখন্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব এ চারটি উপাদান নিয়ে রাষ্ট্র গঠিত হয়। সরকার উক্ত চারটি উপাদোনের মধ্যে একটি অন্যতম উপাদান, যার মাধ্যমে একটি রাষ্ট্র পরিচালিত হয়।

খ. জনসমষ্টি: রাষ্ট গঠিত হয় দেশের সব জনগণ নিয়ে। আর সরকার গঠিত হয় আইন, শাসন ও বিচার বিভাগের নিয়োজিত ব্যক্তিদের নিয়ে।

গ. স্থায়িত্ব: রাষ্ট্র স্থায়ী প্রতিষ্ঠান, কিন্তু সরকার অস্থায়ী এবং পরিবর্তনশীল। জনগণের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এবং রাষ্ট্রের শাসনকার্য পরিচালনার সুবিধার্থে সরকার পবিবর্তিত হয়। কিন্তু রাষ্ট্রের পরিবর্তন হয় না। উদাহরণস্বরূপ: বাংলাদেশ সরকার পরিবর্তন হয়েছে অনেকবার কিন্তু রাষ্ট্রের স্থায়িত্বের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

ঘ. প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য: বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য অভিন্ন। কিন্তু সরকারের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য রাষ্ট্রভেদে ভিন্ন ভিন্ন। যেমন- বাংলাদেশে রয়েছে সংসদীয় সরকার, আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার।

ঙ. সার্বভৌমত্ব: রাষ্ট্র সার্বভৌম বা সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী। সরকার সার্বভৌম ক্ষমতার বাস্তবায়নকারী মাত্র।

চ. ধারণা: রাষ্ট্র একটি বিমূর্ত ধারণা। রাষ্ট্রকে দেখা যায় না, কল্পনা বা অনুধাবন করা যায়। কিন্তু সরকার মূর্ত। কারণ, যাদের নিয়ে সরকার গঠিত হয়, তাদের দেখা যায়।

উপরোক্ত আলোজনা থেকে বলা যায়, রাষ্ট্র ও সরকারের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও উভয়ের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। একটিকে ছাড়া অন্যটির কথা কণ্পনা করা যায় না। রাষ্ট্রকে পরিচালনার জন্যই সরকার গঠিত হয়।

559 Views
Leave A Reply

Your email address will not be published.