সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯

সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯

কর্মচারীদের চাকুরিতে নিয়োগ ও চাকুরির শর্ত নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৩ নং অনুচ্ছেদ মোতাবেক ১৯৬৪ ও ১৯৬৬ সালের  আচরণ বিধিমালা বাতিল করে মহামান্য রাষ্ট্রপতি প্রদত্ত ক্ষমতাবলে উপরাষ্ট্রপতি সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯ প্রনয়ণ করেন। 

সরকারি কর্মচারীগণের বিভিন্ন আচরণ সংবলিত বিধিগুলো সর্ম্পকে নিচে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো-

বিধি-২: প্রয়োগ

সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি, ১৯৭৯ প্রজাতন্ত্রের বেসামরিক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। যাদের বেলায় এ বিধি প্রযোজ্য হবে না তারা হলেন-

(ক) রেলওয়ে সংস্থাপন কোড যাদের বেলায় প্রযোজ্য এমন কর্মচারীবৃন্দ।

(খ) মেট্রোপলিটন পুলিশের অধঃস্তন কর্মকর্তা/ কর্মচারীবৃন্দ।

(গ) পুলিশ পরিদর্শক পদমর্যাদার নিন্মের পুলিশ বাহিনীর সদস্যবৃন্দ।

(ঘ) বাংলাদেশ রাইফেলসে অধঃস্তন কর্মচারীবৃন্দ।

(ঙ) জেলখানার উপজেলার এবং সার্জেন্ট ইনস্ট্রাক্টরের নিম্নের অধঃস্তন জেল কর্মকর্তা।

চ) সরকার কর্তৃক গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নির্দিষ্টকৃত চাকুরি বা পদে নিয়োজিত কর্মচারীবৃন্দ।


বিধি-৩: সংজ্ঞা

সরকারি কর্মচারীর পরিবারের সদস্য বলতে স্ত্রী, স্বামী, সন্তান, সৎ সন্তান এবং সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল স্ত্রী/ এবং আত্নীয়-স্বজনকে বুঝায়।

 

বিধি-৪: রহিতকরণ

সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি ১৯৭৯ জারি করার পর এ সম্পর্কিত পূর্বতন বিধি ১৯৬৪ ও ১৯৬৬ বাতিল করা হলো।

 

বিধি-৫: উপহার সামগ্রী গ্রহণ

সরকারের পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে সরকারি কর্মচারী নিজে কিংবা তাঁর পরিবারের সদস্য অফিসের কর্তব্যের সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির কাছ হতে উপহার সামগ্রী গ্রহণ করতে পারবেন না। যদি এ দান এড়ানো সম্ভব না হয় তবে তা নিষ্পত্তির জন্য সরকারের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এ ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন উঠলে সরকারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। সচিব বা সমপর্যায়ের কোন কর্মকর্তা সর্বাধিক ৫০০/= টাকার মূল্যমানের উপহার সামগ্রী গ্রহণ করতে পারবেন। 

 

বিধি-৬: বিদেশি পুরস্কার গ্রহণ সম্পর্কিত বিধি

রাষ্টপতির পূর্ব অনুমতি ব্যতিরেকে কোনো সরকারি কর্মচারী বিদেশি পদবি, পুরস্কার বা উপাধি গ্রহণ করতে পারবেন না। তবে সময়ের স্বল্পতার জন্য পূর্ব অনুমতি না নেওয়া গেলে তা পরে নিতে হবে। 

 

বিধি-৭: সরকারি কর্মচারীদের সম্মানে গণসভা

কোনো সরকারি কর্মচারী তাঁর সম্মানে সভা আয়োজনে কিংবা তাকে প্রশংসা করার জন্য গণসভা আয়োজনে উৎসাহ দিতে পারবেন না। তবে বদলি কিংবা অবসর গ্রহণের নিমিত্তে ঘরোয়া পরিবেশে অনুষ্ঠিত বিদায়ী সভায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

 

বিধি ৮+৯-: তহবিল সংগ্রহ এবং চাঁদা আদায় সম্পর্কিত বিধান

একজন সরকারি কর্মচারী ত্রাণ কমিটির সদস্য এবং অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় বহন করার জন্য স্থানীয় জনগণের কাছ হইতে নিম্নলিখিত শর্তসাপেক্ষে সরকারের অনুমতিক্রমে তহবিল সংগ্রহ করতে পারবেন।

) তহবিল সপ্তাহের ব্যাপারে কোনো ব্যক্তিগত আবেদন করা যাবে না, যাতে তার সরকারি দায়িত্ব পালনে প্রভাব পড়তে পারে। 

খ) ব্যক্তিগতভাৱে চাঁদা তোলার সাথে নিজেকে সংশ্লিষ্ট করা যাবে না।

গ) অফিসের সময় চাঁদা তোলা যাবে না।

ঘ) চাঁদা তোলার ব্যাপারে কোনো ভীতি বা চাপ প্রয়োগ করা যাবে না।

ঙ) শর্তসাপেক্ষে চাঁদা আদায় করা যাবে না।

চ) অফিসের কর্তবা অবহেলা করে তহবিল সংগ্রহে সংশ্লিষ্ট হতে পারবেন না।

ছ)  চাঁদার নিয়মিত হিসাব সংরক্ষণ সম্পর্কে নিরীক্ষার জন্য পরবর্তী উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিকট পেশ করবেন। উল্লেখ্য যে, বিধিতে যাই বলা হোক না কেন, বাংলাদেশ রাইফেল, পুলিশ, মেট্রোপলিটান পুলিশ, আয়কর বিভাগ খাদ্য বিভাগের কোনো কর্মচারী কর্মকর্তা কোনোক্রমেই তহবিল সংগ্রহে নিজেকে জড়িত করতে পারবেন না।

বিধি-১০: সরকারি কর্মচারী কর্তৃক ধার গ্রহণ এবং প্রদান
অফিস সম্পর্কিত কাজের সাথে লেনদেন বা যোগাযোগ রয়েছে এমন কোনো ব্যক্তিকে ধার প্রদান অথবা যার গ্রহণ করা যাবে না। তবে যৌথ মূলধনী কারবার, ব্যাংক বা সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সাথে সাধারণ লেনদেনের ক্ষেত্রে  বিধি প্রযোজ্য হবে না।
বিধি-১১: স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়সংক্রান্ত বিধান
একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ১৫,০০০/- টাকার বেশি মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রয়, বিরক্সা ইচ্ছাকে বিভাগীয় প্রধান কিংবা সচিবকে জানাতে হবে। তবে বদলির ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ না রেখেই সম্পত্তি প্রকাশ্য নিলাম বিক্রি করতে পারবেন।
বিধি-১২: বাড়িঘর নির্মাণসংক্রান্ত বিধান
সরকারের পূর্ব অনুমতি ছাড়া বাণিজ্যিক বা বাসস্থানের জন্য বাড়িঘর নির্মাণ করা যাবে না এবং নির্মাণের জন্য তহবিলের উৎস সরকারকে জানাতে হবে।
বিধি ১৩: সম্পত্তির ঘোষণা প্রদানসংক্রান্ত বিধান
চাকরিতে যোগদানের সময় নিজের কিংবা পরিবারের ৫০,০০০/- টাকা মূল্যের সম্পত্তি (স্থাবর ও অস্থাবর) থাকলে তার বিবরণ দিতে হবে। ঘোষণাপত্রে কোনো জেলায় সম্পত্তির অবস্থান এবং স্বর্ণালঙ্কার থাকলে প্রত্যেক প্রকারের বিবরণ দিতে হবে। এ ছাড়াও সরকারের সাধারণ ও বিশেষ আদেশের প্রেক্ষিতে যেকোনো সময় এ তথ্য প্রদান করতে হবে। কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রতি বছরের ডিসেম্বর মাসে বাৎসরিক আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রদান করতে হবে।
বিধি ১৪: চলতি সম্পত্তির হিসাব প্রকাশ
সহজে নগদ টাকায় পরিণত করা যায় এমন সম্পত্তির হিসাব সরকারের নিকট প্রকাশ করতে হবে।

বিধি-১৫: ফাটকা ব্যবসায় ও বিনিয়োগ

ফাটকা ব্যবসায় টাকা বিনিয়োগ করা কিংবা পরিবারের কোনো সদস্যকে ব্যবসায় বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়া যাবে না। নিরাপত্তা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো প্রশ্ন উঠলে সরকারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

বিধি-১৬: কোম্পানি স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা

কোস্পানি স্থাপন ও ব্যবস্থাপনায় জড়িত হওয়া যাবে না। তবে নিবন্ধীকৃত সমবায় সমিতিগুলোতে সরকারের সাধারণ বা বিশেষ আদেশের ভিত্তিতে অংশগ্রহণ করা যাবে।
বিধি-১৭: ব্যক্তিগত ব্যবসায় বা চাকুরি

সরকারি কর্মচারী ব্যক্তিগত ব্যবসায় বা অন্য কোন চাকুরিতে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারবেন না। তবে চতুর্থ শ্রেণির সরকারি কর্মচারীগণ অনুমতি নিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায় অফিস সময় পরবর্তী নিয়োজিত হতে পারবেন। সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া কর্মস্থলে পরিবারের কোনো সদস্যকেও ব্যবসায় নিয়োজিত করা যাবে না।

বিধি-১৮: অসচ্ছলতা ও অভ্যাসগত ঋণ

অভ্যাসগত ধার করার প্রবণতাকে পরিহার করতে হবে। অসচ্ছলতার বিষয় দপ্তর প্রধান অথবা সচিবকে জানাতে হবে।

 

বিধি-১৯: অফিসের দলিল বা তথ্য প্রকাশ
সাধারণ বা বিশেষ ক্ষমতা প্রদান ছাড়া অফিসের দলিল বা তথ্যাবলি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অন্য কোন কর্মচারী, সরকারি নয় এরূপ ব্যক্তি এবং প্রেসের ব্যক্তিদের কাছে প্রকাশ করা যাবে না।
বিধি-২০: সংসদ সদস্যগণের প্রতি অনুরোধ

প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোন সংসদ সদস্য বা অন্য কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে তার পক্ষে কোন ব্যাপারে হস্তক্ষেপের জন্য সুপারিশ করানো যাবে না।

বিধি-২১: সংবাদপত্র, সাময়িক প্রত্রিকার ব্যবস্থাপনা

পূর্ব অনুমতি ব্যতিরেকে কোনো সরকারি কর্মচারী সংবাদপত্রের বা সাময়িক পত্রিকার সম্পূর্ণ বা আংশিক স্বত্বাধিকারী অথবা পরিচালনা বা সম্পাদনায় বা ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না

বিধি-২২: বেতার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ বা সংবাদমাধ্যমে তথ্য পরিবেশন
বিভাগীয় প্রধানের পূর্ব অনুমতি ছাড়া রেডিও, টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, সংবাদপত্র বা সাময়িক পত্রিকায় ছদ্মনামে বা নিজের নামে কোনো নিবন্ধ বা পত্র লিখতে পারবেন না।
বিধি-২৩: সরকারের সমালোচনা ও বিদেশি রাষ্ট্র সম্পর্কে তথ্যাবলি ও মতামত প্রকাশ

সরকারের এমন কোনো দলিল বা তথ্যাবলি তাঁর নিজের নামে সংবাদপত্রে বা রেডিও, টেলিভিশনে প্রচার করতে পারবেন না যা-

(ক) সরকারের সাথে জনগণের েএবং অন্য কোনো শ্রেণির জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বিনষ্ট করে

(খ) সরকার ও বিদেশি সরকারের সাথে সম্পর্ক বিনষ্ট করে

 

বিধি-২৪: কমিটির নিকট সাক্ষ্য প্রদান
পূর্ব অনুমতি ছাড়া কোনো সরকারি কমিটির সম্মুখে সাক্ষ্য প্রদান করা যাবে না। অনুমতিক্রমে সাক্ষ্য প্রদানের সময় সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত সমালোচনা করা যাবে না। তবে, বিচার বিভাগীয় মামলার অথবা আদালতের সমন পেয়ে তদন্তের জন সাক্ষ্য দেয়ার ক্ষেত্রে এ আইন প্রযোজ্য হবে না।
বিধি-২৫: রাজনীতি ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ
যেকোনো সরকারি কর্মচারী জাতীয় নির্বাচন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা করতে পারবেন না। তবে তার ভোটদানের এখতিয়ার কোনোভাবেই খর্ব করা যাবে না।
বিধি-২৬: সম্প্রদায়ভুক্ত ধর্মমত প্রচার
বিধি-২৭: স্বজনপ্রীতি, প্রিয়তোষণ ও প্রতারণা
বিধি-২৭ (এ): মহিলা সহকর্মীদের প্রতি আচরণ
বিধি-২৮: জনস্বার্থে সরকারি কর্মচারী (জনস্বার্থে) তাঁর কার্যকলাপের জন্য আইনের সমর্থন
বিধি-২৯: চাকুরিজীবী সমিতির সদস্য হওয়া
বিধি-৩০: রাজনৈতিক বা অন্য কোনো প্রভাব খাটানো
বিধি-৩১: বৈদেশিক দূতাবাস বা সাহায্যদাতা সংস্থার নিকট তদবির
বিধি-৩২: আচরণবিধি, ১৯৭৯ -এর লংঘন
বিধি-৩৩: ক্ষমতা অর্পণ
বিধি-৩৪: অন্য সকল বিধিকে খর্ব না করা
535 Views
Leave A Reply

Your email address will not be published.